UA-199656512-1
top of page

কূর্ম অবতার এর আবির্ভাব কিভাবে হল

Updated: Jun 25, 2020

বিষ্ণুর দশ অবতার এর দ্বিতীয় অবতার হল ভগবান কূর্ম অবতার। আজ কূর্ম অবতার সম্বন্ধে আলোচনা করব।প্রাচীন কালের কথা দেবতা ও রাক্ষস দের মধ্যে পারস্পারিক মতভেদের কারণে শত্রুতা বেড়ে গিয়েছিল প্রায়। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ বিবাদ হত।রাক্ষস দের আক্রমণে একবার সব দেব-দেবতাগণ ভীত হয়ে পড়েন।পালাতে পালাতে তারা ব্রহ্মার নিকট উপস্থিত হলেন ব্রহ্মার পরামর্শে তারা সকলে মিলে জগদগুরু নিয়ে প্রার্থনা করা শুরু করলেন।দেব দেবতাদের প্রার্থনায় ভগবান প্রসন্ন হয়ে বললেন হে দেবগণ তোমরা দলের সাথে দেখা করো। তাকে তোমাদের নেতা করে দানব ও দেবতা মিলে সমুদ্র মন্থনের ব্যবস্থা তৈরি করো। এই কথা বলে ভগবান বিষ্ণু অন্তর্ধান হলেন।


এরপর সকল দেবতারা বলি কে নেতা নির্বাচিত করে বাসুকিনাগ কে মন্ত্রী এবং মন্দর পর্বত মন্থন দন্ড বানিয়ে দানব গণের সঙ্গে সমুদ্র মন্থন করা শুরু করলেন যৌথভাবে।সকলে ভীষণ বিব্রত হয়ে পড়লেন শেষে হতাশ হয়ে তারা আবার ভগবান শ্রী হরির সরণ গ্রহণ করলেন। ভগবান তো সবই জানতেন এবং জানেন কারণ তিনি সর্বশক্তিমান।ভগবান হেসে বললেন যে কোন কাজ আরম্ভ করার আগে সিদ্ধিদাতা গণেশ পুজো করা উচিত তার পূজো না করলে কার্য সিদ্ধি কখনোই হবে না। এই কথা শুনে দেবো তারা গণেশের পুজো করতে শুরু করলেন।একদিকে যখন গণেশের পুজো হচ্ছে তখন আরেক দিকে লীলাময় প্রভু পূর্ব অর্থাৎ রূপ ধারণ করে মন্দর পর্বতকে নিজের পিঠের উপর উঠিয়ে নিলেন। এরপর শুরু শুরু হলো সমুদ্র মন্থন পর্ব। মন্থন করতে করতে অনেক সময় চলে গেল।কিন্তু অমৃত কোনভাবেই উঠলো না তখন ভগবান সহজ হয় নিজের দুই দিকে মন্থন শুরু করলেন সেই মন্থনে উঠল অতি ভয়ংকর বিশ। সেই বিশ ভগবান নীলকন্ঠ তা পান করলেন। (নীলকন্ঠ বলতে শিব কে বোঝানো হয়েছে) এইভাবে কামধেনু, উচ্চৈঃশ্রবা নামের ঘোড়া, ঐরাবত নামক হাতি, কৌস্তুভ মনি, অপ্সরা বৃন্দ, বারুণী, কল্প বৃক্ষ, ভগবতী শ্রী লক্ষ্মী দেবীর, চন্দ্র, ধনুক ,শঙ্খ, ধন্বন্তরি এবং সর্বশেষে সমুদ্র থেকে ভেসে উঠলো এই অমৃত। কঠিন সময়ের পর চলে আসলো সেই অমৃত। অমৃতের জন্য দানব ও দেবতাগণ দু'পক্ষই তা পান করার জন্য উঠে পড়ল। ফলে সেখানে ঝগড়া বেধে গেল।ভগবান তখন নিজে এক বিচিত্র লীলা করে অমৃত দেবতাদের পক্ষে দিয়ে দেবো তাদের তা দিয়ে দিলেন। অমৃত পান করে দেবতারা অমর হয়ে গেলেন এবং যুদ্ধে তারা বিজয়ী হলেন। বিজয়ী দেবতারা ভগবান বিষ্ণুর স্তুতি করতে শুরু করলেন। ভগবানের এই দ্বিতীয় রূপ হল      কূর্ম অবতার তখন দেব দেবী কোন ভগবান কূর্ম দেবের স্তুতি করতে শুরু করলেন। তাদের বন্দনায় প্রসন্ন হয় ভগবান বললেন, দেবগন! ভগবানের আশ্রিত হয় অর্থাৎ ভগবানের শরণাগতি নিয়ে যারা কর্ম সম্পাদন করে তাদের দেবতা বলা হয় থাকে। তারাই খাঁটি সুখ-শান্তি ও ঐশ্বর্য এবং অমৃত তত্ত্ব প্রাপ্ত হয় কারণ ভগবান তাদের পুরস্কৃত করেন। কিন্তু যারা অল্প বুদ্ধি সম্পন্ন তারা সবসময় ভগবান থেকে বিমুখ থাকে এবং অহংকার পূর্বক সকল কর্ম করে তারা কখনোই অমৃত লাভ করতে পারে না এটাই হল বিধান। এই কথা বলে ভগবান অন্তর্হিত হয়ে গেলেন। এ ভাবেই ভগবান বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতার কূর্ম দেবের আবির্ভাব হয় এবং দেব কুল ও জগতকে রক্ষা করা হয় বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়েছে জলের পরে স্থল এর আবির্ভাব বা সৃষ্টি আমাদের সনাতন সংস্কৃতি ও তাই বলে যে জলের পড়ে এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে স্থল।





লিখেছেনঃ--শ্রীসৈকত কুমার,বরগুনা,বরিশাল,বাংলাদেশ


145 views0 comments
Be Inspired
bottom of page