UA-199656512-1
top of page

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_১৬,চলবে)*


*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_১৬,চলবে)*



*#অন্ত্যলীলায় মহাপ্রভুর প্রেমোন্মাদ-প্রলাপ !*


"#গম্ভীরা_ভিতরে_রাত্রে_নাহি

নিদ্রা লব ৷ ভিত্ত্যে মুখ-শির ঘসে-ক্ষত হয় সব॥" (চৈ;চ;)

#বাড়ির_ভিতরের নির্জন ঘরকে গম্ভীরা বলে ৷ মহাপ্রভু নীলাচলে কাশীমিশ্রের বাড়িতে গম্ভীরায় বাস করতেন ৷

"#যেকালে_দেখে_জগন্নাথ, শ্রীরামসুভদ্রা সাথ ,

তবে জানে আইলাঙ্ কুরুক্ষেত্র ৷

সফল হৈল জীবন,

দেখিলুঁ পদ্মলোচন ,

জুড়াইল তনু-মন-নেত্র ॥

গরুড়ের সন্নিধানে ,

রহি করে দরশনে ,

সে আনন্দের কি কহিব বলে ৷

গরুড়স্তম্ভের তলে ,

আছে এক নিম্নখালে ,

#সে_খাল_ভরিল_অশ্রুজলে॥(চৈ,;চ;)

#সূর্যগ্রহণের_স্নান উপলক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকা থেকে দেবকী-বসুদেবাদি সকলকে সঙ্গে নিয়ে কুরুক্ষেত্রে এসেছিলেন ৷ শ্রীধাম বৃন্দাবন থেকে নন্দ-যশোদাদি এবং শ্রীরাধিকাদি প্রেয়সীগণও স্নান উপলক্ষে কুরুক্ষেত্রে সমবেত হয়েছিলেন ৷

#সেখানে_শ্রীকৃষ্ণকে

দেখে শ্রীরাধার মনে যে ভাবের উদয় হয়েছিল—শেষ বারো বছর

জগন্নাথ মন্দিরে শ্রীজগন্নাথদেবকে দেখে রাধার ভাবে বিভাবিত মহাপ্রভুর হৃদয়ে কুরুক্ষেত্র মিলনের সেই স্মৃতি জাগরিত হত ৷ তিনি যে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য এবং নীলাচলে আছেন—একথা তাঁর মনে হত না ৷ তিনি সর্বদা মনে মনে শ্রীকৃষ্ণকে চিন্তা করতেন বলে শ্রীজগন্নাথকেও ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ বলেই মনে করতেন ৷

#গরুড়_স্তম্ভের_মূলদেশে

একটি গর্ত আছে,জগন্নাথ দর্শনে মহাপ্রভুর যে প্রেমাশ্রু নির্গত হত, সেই অশ্রুতেই ওই গর্তটি পূর্ণ হয়ে যেত, আর


*#মহাপ্রভু_রাধাভাবে বিভোর হয়ে ভাবতেন যে, তিনি কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণকে দেখছেন ৷*


#প্রভুর_হৈল_দিব্যোন্মাদ ,

তবু মন অবসাদ ,

ভাবাবেশে করে সম্বোধন ॥(চৈ;চ;)

#মহাভাব_দুই_প্রকার—রূঢ় ও অধিরূঢ় ৷ অধিরূঢ় মহাভাব আবার দুই রকম—মোদন ও মাদন ৷ মোদন হ্লাদিনী শক্তির পরমাবৃত্তি-যা সর্বশ্রেষ্ঠ ৷ এই মোদন শ্রীরাধা ভিন্ন অন্য কোথাও দেখা যায় না ৷ প্রবিশ্লেষ-দশায় এই মোদনকে মোহন বলে৷

এই মোহনে বিরহাদি জনিত সমস্ত সাত্ত্বিকভাব সূদ্দীপ্ত হয় ৷ এই মোহন যখন অনির্বচনীয় গতি প্রাপ্ত হয়,তখন ভ্রমসদৃশী বৈচিত্রী দশা লাভ করে,তখন একে *#দিব্যোন্মাদ_বলে !*

"'(উদ্ঘৃর্ণা ও চিত্রজল্পাদি ভেদে দিব্যোন্মাদ বহুবিধ ৷দিব্যোন্মাদ দশায় ভ্রমময় চেষ্টা ও প্রলাপময় বাক্যাদি দেখা যায় !"')


*#হে_দেব_হে_দয়িত হে ভুবনৈকবন্ধো হে কৃষ্ণ হে চপল হে করুণৈকসিন্ধো ৷ হে নাথ হে রমণ হে নয়নাভিরাম হাহা কদা নু ভবিতাসি পদং দৃশোর্মে ॥* (শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত)


#হে_দেব ! হে দয়িত !

হে ভুবনবন্ধু ! হে কৃষ্ণ ! হে চপল !

হে করুণাসিন্ধু ! হে নাথ ! হে রমণ ! হে নয়নাভিরাম ! হা ! হা ! আমার চক্ষুদ্বয় কবে তোমায় দেখতে পাবে !

#যথা_রাগঃ॥


#উন্মাদের_লক্ষণ ,

করায় কৃষ্ণ স্ফূরণ ,

ভাবাবেশে উঠে প্রণয় মান ৷

সোল্লুঠ বচন রীতি ,

মানগর্বব্যাজস্তুতি ,

কভু নিন্দা কভু ত সস্মান॥

(চৈ;চ;)


*#প্রেমবিকাশের দ্বিতীয় স্তরের নাম স্নেহ , তৃতীয় স্তরের নাম মান এবং চতুর্থ স্তরের নাম প্রণয় ৷ এই স্নেহ আরও উৎকর্ষ লাভ করে যখন নব নব মাধুর্য অনুভব করায় এবং নিজেও কুটিলভাব ধারণ করে , তখন তাকে #মান বলে ৷*


#মান_উৎকর্ষ

লাভ করে যখন, এমন অবস্থায় উপনীত হয় , যাতে প্রিয়জনের সঙ্গে নিজেকে অভেদ মনে করে-

তখন ওই উৎকর্ষ-প্রাপ্ত মানকে প্রণয় বলে ৷ পরিহাসযুক্ত বাক্যভঙ্গী হল সোল্লুণ্ঠ বচন ৷ আর সৌভাগ্য,রূপ,যৌবন,গুণ, সর্বোত্তমাশ্রয় এবং ইষ্টলাভাদি হেতু অন্যের অবজ্ঞাকে গর্ব বলে ৷ পরিহাস বাক্য, লীলাবশত উত্তর না দেওয়া, নিজের অঙ্গ দর্শন , নিজের অভিপ্রায় গোপন , অন্যের কথা না শোনা ইত্যাদি গর্বের লক্ষণ ৷ নিন্দাচ্ছলে স্তুতি ও স্তুতিচ্ছলে নিন্দাকে ব্যাজস্তুতি অলংকার বলে ৷


#তুমি_দেব_ক্রীড়ারত ,

ভুবনের নারী যত ,

তাহে কর অভীষ্ট ক্রীড়ন ৷

তুমি মোর দয়িত ,

মোতে বৈসে তোমার চিত ,

মোর ভাগ্যে কর আগমন ॥ #ভুবনের_নারীগণ ,

সভা কর আকর্ষণ ,

তাহা কর সব সমাধান ॥

তুমি কৃষ্ণ চিত্তহর ,

ঐছে কোন্ পামর ,

তোমারে বা কোন করে মান॥

(চৈ;চ;)


(পূর্বার্দ্ধ )

#এখানে_শ্রীকৃষ্ণকে

"'দেব"' বলে সম্বোধন করাতে , শ্রীকৃষ্ণ অন্য নারীতে ক্রীড়াপরায়ণ , অন্য নারীতে আসক্ত এটাই সুচিত হচ্ছে ; ধীরাধীরমধ্যা নায়িকা দিব্যোন্মাদিনী শ্রীরাধিকার ভাবে আবিষ্ট মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণকে লক্ষ্য করে বক্রোক্তি করে বলছেন—

*#হে_কৃষ্ণ_তুমি_ত_দেব ; অন্য নারীর সঙ্গে ক্রীড়া করে থাক, তবে এখানে এসেছ কেন ? এখানে তোমার কী প্রয়োজন ?—

(এটাই এখানে#দেব " শব্দের ব্যাখ্যা )৷

(দ্বিতীয়ার্ধ)


#তুমি_মোর_দয়িত"— যখন মনে করলেন, বক্রোক্তিরূপ তিরস্কারাদি শুনে শ্রীকৃষ্ণ চলে গেছেন ,তখন আবার তাঁকে দেখার জন্য উৎসুক হয়ে কলহান্তরিতা নায়িকার ভাবে শ্রীরাধা বলছেন—"#তুমি_মোর দয়িত............কর আগমন ৷"

এখানে শ্রীকৃষ্ণের দর্শনের জন্য ঔৎসুক্য-ভাবের উদয় হয়েছে এবং অমর্য ও উৎসুক্য এই দুই ভাবের সন্ধি সম্পন্ন হয়েছে ॥

(পূর্বার্দ্ধ )


#আবার_যখন_মনে

করলেন, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর আহ্বানে তাঁর কাছে এসে অপরাধ ক্ষমা করার জন্য অনুনয়-বিনয় করছেন, তখন আবার তাঁর অসূয়ার উদয় হল ৷ তাই পরিহাস করে বক্রোক্তি সহকারে বলতে লাগলেন—#ভুবনের_নারীগণ.....

..........সব সমাধান ৷" এখানে অমর্যের অনুগত অসূয়ার উদয় হওয়ায় ধীরমধ্যা নায়িকার স্বভাব ব্যক্ত হয়েছে(যে নায়িকা অপরাধী প্রিয়কে উপহাসসহ বক্রোক্তি প্রয়োগ করে, তাকে ধীরমধ্যা বলে)৷

(দ্বিতীয়ার্ধ)


*#আবার_যখন_মনে করলেন, বক্রোক্তি শুনে শ্রীকৃষ্ণ বুঝি চলে গিয়েছেন, তখন আবার তাঁর দর্শনের জন্য অত্যন্ত উৎকণ্ঠিতা হয়ে বলতে লাগলেন* -


#তুমি_কৃষ্ণ_চিত্তহর.......তোমারে বা কোন করে মান ৷"' এইজন্য এখানে ঔৎসুক্যের অনুগত মতি-নামক ভাবের উদয় হয়েছে ৷ (এটাই এখানে #কৃষ্ণ শব্দের ব্যাখ্যা )৷

1 view0 comments
Be Inspired
bottom of page