UA-199656512-1
top of page

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_২৬)* চলবে ৷


*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*


*(#পর্ব_২৬)* চলবে ৷



"#ন_প্রেমগন্ধোহস্তি_দরাপি_মে হরৌ ক্রন্দামি সৌভাগ্যভরং প্রকাশিতুম্ ৷ বংশীবিলাস্যাননলোকনং বিনা বিভর্মি যৎ প্রাণপতঙ্গকান্ বৃথা॥"

(চৈ:চ:—২/২/শ্লোক-৬)

#শ্রীকৃষ্ণে_অামার লেশমাত্রও প্রেমগন্ধ নেই ৷ অামি নিজে যে অত্যন্ত সৌভাগ্যশালী, তা প্রকাশ করতেই কাঁদি ৷ যদি অামার প্রেম থাকত, তাহলে বংশীবিলাসী শ্রীকৃষ্ণের মুখ না দেখেও কি এই প্রাণপতঙ্গকে বৃথা ধারণ করতে পারতাম ৷

#মহাপ্রভু শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতেন না, কেননা দারুব্রহ্মের মুখোমুখি হলেই সচলব্রহ্মরূপ #শ্রীচৈতন্য মহাপ্রেমভরে #অচৈতন্য হয়ে পড়তেন ৷

#মহাপ্রভু_সন্ন্যাস

গ্রহণের পর শ্রীক্ষেত্রে পৌঁছে আঠারনালা হতে শ্রীমন্দিরের শীর্ষে বংশীবাদনরত শ্রীগোপালকে দর্শন করে মহাপ্রেমে মহাবেগে একলাই ছুটে গিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করে গর্ভগৃহে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়েন ৷ সেই পূর্ব স্মৃতি মহাপ্রভুর মনে ছিল ৷ তাই মহাপ্রভু শ্রীশ্রীজগন্নাথ মন্দিরের দ্বারে যে গরুড় স্তম্ভটি আছে সেইখান থেকে অপলক নয়নে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মুখপানে সতৃষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতেন-মহাপ্রভুর চোখের পলক পড়ত না ৷

#তখন_মহাপ্রভু রাধাভাবে ভাবিত হয়ে শ্রীশ্রীজগন্নাথমূর্তির মধ্যে শ্রীকৃষ্ণকেই দর্শন করতেন ৷

#সেইসময়_মহাপ্রভুর মন চলে যেত কুরুক্ষেত্রের বিশুদ্ধ ক্ষেত্রে যেখানে সূর্যগ্রহণ উপলক্ষ্যে মহাস্নানযোগে একসময়ে সমগ্র দ্বাপরযুগের ভারতবাসীগণ উপস্থিত হয়েছিল৷

মহাপ্রভু মহাভাবদৃষ্টিতে দেখতেন

শ্রীরাধা বৃন্দাবন থেকে গোপীদের সঙ্গে কুরুক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছেন আর ওদিকে দ্বারকা থেকে মহিষীগণ ও সুভদ্রা বলরাম সহ শ্রীকৃষ্ণও সেখানে এসেছেন , মহাপ্রভু মহাভাব দৃষ্টিতে শ্রীকৃষ্ণের মাথুর লীলায় আবিষ্ট হয়ে— #শ্রীকৃষ্ণ_বিরহে শ্রীরাধা নিজ সঙ্গিনীকে বলছেন, সখি ! মাধব মথুরা গমন করবার সময় যা বলেছিল সেই সকল কথা আমার স্মৃতিতে এল ৷ তখন দু'জনের হৃদয়েই করুণা বৃদ্ধি হল এবং দু'জনের চোখ থেকে জলধারা বের হতে লাগল ৷ আমি করজোড়ে বলেছিলাম , যাবে যাও কিন্তু শীঘ্রই এসো ৷ প্রাণবল্লভ আমার কাছে শপথ করে বলেছিল "#প্রিয়ে! আমি কালই চলে আসব ৷ সখি সে সকল কথার অন্যথা হল ৷ মথুরায় আবার দেখতে দেখতে বসন্ত ঋতু ফিরে এল ৷

"#কথা_দিয়ে_সেই_যে বৃন্দাবন ছেড়েছে আর ফিরে আসে নাই। এরূপ প্রলাপ করতেন ৷ আরো কতই না মহাপ্রভু প্রলাপ করতেন ৷ শুধু দুটি নয়ন ভরে তোমাকেই একবার দেখব বলে এতদূর ছুটে এসেছি ৷ যদিও তুমি শঠ, তুমি প্রতারক তবুও আমি #সেই_রাধা তুমি সেই কৃষ্ণ"' কতদিন তোমার শ্রীমুখ দেখি নাই , প্রাণবল্লভ আমার ! প্রিয়তম আমার ! এরূপ কত না কত প্রলাপ করতেন ৷

#মহাপ্রভুর_মন আর বাধা মানত না ৷ তখন মহাপ্রভুর অর্দ্ধবাহ্য দশায় ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে হৃদি-যমুনায় মহাপ্লাবন তুলে নয়নের মধ্যকূল ছাপিয়ে প্রেমাশ্রুর মহা ঢল নেমে আসত এবং মহাপ্রভুর দুই গণ্ডদেশ বয়ে বক্ষদেশ ভাসিয়ে গরুড় স্তম্ভের নিম্নদেশের খালটি ভরে যেত—

"#গরুড়ের_সন্নিধানে,

রহি করে দরশনে,

সে আনন্দের কি কহিব বলে ৷

গরুড়স্তম্ভের তলে,

আছে এক নিম্নখালে,

সে খাল ভরিল অশ্রুজলে॥

(চৈ:চ:-২/২/৪৭)

#ভগবৎলীলায় যা অলৌকিক তা অলৌকিকই ৷ তর্কে তা বিচার করা চলে না ৷ যাঁর পদধৌত জল সুরধূনির বিশালধারা সৃষ্টি করতে পারে, তাঁর প্রেমাশ্রুতে কেন একটি ক্ষুদ্রখালে প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না ? নিশ্চয়ই পারে ৷ কারণ, করুণার অবতার মহাপ্রভুর আচার-আচরণ দেহ-মন সব কিছুই একদিকে যেমন প্রেমাস্বাদনে, অন্যদিকে তেমনি জগৎ-মঙ্গলের জন্যই লীলায়িত করেছেন ৷ মহাপ্রভু যে করুণাময় ৷ মহাপ্রভুর করুণার পরিসীমা করা জীবের পক্ষে কোনদিনও কোন-কালেই সম্ভব নয় ৷

0 views0 comments
Be Inspired
bottom of page