UA-199656512-1
top of page

"(#পর্ব_দশ_পোষ্ট_৩৩)" অাচণ্ডালে কোলে নেয় দয়াল নিতাই:—


"(#পর্ব_দশ_পোষ্ট_৩৩)"


অাচণ্ডালে কোলে নেয় দয়াল নিতাই:—

নিত্যানন্দের দয়া চৈতন্যমহাপ্রভুকে ছাড়িয়ে যায় ৷ কেউ হয়ত এটাকে অনাবশ্যক বা মাত্রাধিক্য বলে মনে করতে পারেন ৷ কারণ, দেখা যায় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অত্যাধিক অপরাধীকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক কারণ মহাপ্রভুকে সবদিকটা নজর রাখতে হয়, একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হয় ৷ কিন্তু, নিত্যানন্দের সেসব বালাই ছিল না, তিনি ঐসব বিচার করেন না ,নির্বিচারে প্রেম দেওয়াই নিত্যানন্দের স্বভাব ৷ কৃপা বিতরণে নিত্যানন্দ মুক্তহস্ত, যোগ্য,অযোগ্য কোন বিচারই নিত্যানন্দ করেন না ৷ মহাপ্রভু যাকে নিরাশ করেন, তাকেও নিত্যানন্দ বাহু তুলে কোলে নেন ৷ তখন মহাপ্রভু নিরুপায়; নিতাই চাইছে, তাই মহাপ্রভু কৃপা না করে যাবেন কোথায় ৷ নিত্যানন্দের করুণা উদারতায় বিশালতায় সীমা ছাড়িয়ে যায় ৷ অার এটিই পতিত জীবের একমাত্র অাশা ভরসা , যত পতিতই হোক না কেন নিত্যানন্দের করুণায় একেবারে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারবে ৷

একবার তো মহাপ্রভু তাঁর অনুগতদের কাছে বলেই ফেলেছিলেন:—

"মদিরা যবনী যদি নিত্যানন্দ ধরে৷ তথাপি ব্রহ্মার বন্দ্য কহিনু তোমারে ॥"(চৈ,ভা,)

জাগতিক দৃষ্টিতে নিত্যানন্দপ্রভুর কদাচার কদাচারই নয় ৷


সৃষ্ট-ব্রহ্মাণ্ডে ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষদাতাদের চেয়ে প্রেমদাতাই শ্রেষ্ঠদাতা ৷ কারণ সৃষ্ট জগতে, দেবলোকে,বৈকুণ্ঠে যত সম্পদ অাছে, ভগবৎপ্রেম-কৃষ্ণপ্রেমই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ৷ প্রেমপ্রাপ্তিই সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ৷ যদি স্বীকার করে নেওয়া যায় যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণের চেয়ে অধিক উদার-দয়ালু,তা'হলে একথাও স্বীকার করতে হয় যে, শ্রীবলরামের থেকে শ্রীনিত্যানন্দ অধিক দয়ালু ৷ অন্য সমস্ত ব্যাপারে দুই যুগলই (কৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্য এবং বলরাম ও নিত্যানন্দ) সমান-অভিন্ন ৷ বলরাম ওদার্য্য ভাব অধিক হলেই নিত্যানন্দ হয়ে যান ৷ কৃষ্ণপ্রেমের ভগবৎপ্রেমের স্থান কত উর্দ্ধে সে সম্পর্কে সাধক হৃদয়ে দৃঢ় নিশ্চিত হওয়া দরকার ৷ উচ্চস্তরের সাধুগণ অর্থাৎ উত্তম অধিকারী ভক্তগণ ধর্মার্থকাম ত দূরের কথা,তাঁরা মুক্তিকেও প্রত্যাখ্যান করেন ৷ তাঁরা প্রেমের একবিন্দু অাস্বাদ পেয়ে গেলে বাকী সবই পরিত্যাগ করে থাকেন ৷ সুতরাং প্রেমের স্থান যদি এত উর্দ্ধে তবে সেই প্রেম যারা অযাচিতভাবে যোগ্য অযোগ্য বিচার না করেই দিয়ে থাকেন তবে তাঁরাতো সবচেয়ে বড় দাতা ৷ ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু হচ্ছেন এই বিশ্বের যাবতীয় চেতন জীবের পরমাত্মা ৷ গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু হচ্ছেন এই সমগ্র বিশ্বের পরমাত্মা অার কারণোদকশায়ী বিষ্ণু হচ্ছেন এই বিশ্ব ব্যতীত অার যত অসংখ্য বিশ্ব রয়েছে সেই সমগ্র বিশ্বের পরমাত্মা ৷ এই সমস্ত বিষ্ণুর মূল হচ্ছেনমহাবিষ্ণু,তিনি বৈকুণ্ঠাধিপতি নারায়ণ ৷ স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণের বৈভবপ্রকাশ শ্রীবলদেব ৷ শ্রীবলদেবই অন্যরূপে মহাবিষ্ণু নারায়ণ ৷

অার নিত্যানন্দরূপে বলদেবই অবতীর্ণ হন যখন কৃষ্ণ চৈতন্যরূপে অবতীর্ণ হন ৷ কৃষ্ণ মনুষ্যদেহ ধারণ করে যখনই শ্রীচৈতন্যরূপে অবতীর্ণ হন, বলদেবও তাঁর লীলাসঙ্গী রূপে মনুষ্য দেহ ধারণ করে নিত্যানন্দ রূপে অবতীর্ণ হন, উদ্দেশ্য অবিচারে প্রেম বিতরণ ৷ শ্রীগৌরাঙ্গকে সকলের কাছে বিলিয়ে দেন নিত্যানন্দই ৷ নিত্যানন্দের নরলীলার ক্রমিক ঘটনাগুলির অালোচনা করলে নিত্যানন্দের লীলারহস্যের মর্ম অগগত হওয়া যায় ৷ মহাপ্রভু যখন নিত্যানন্দপ্রভুকে কৃষ্ণপ্রেম বিলাতে অাদেশ দেন, নিত্যানন্দ তা না করে গৌরাঙ্গ-নাম, গৌরাঙ্গ-প্রেম, বিতররণ করতে অারম্ভ করলেন অধম পতিত জীবের কাছে ৷ এমনই দয়াল নিতাই ৷

শ্রীক্ষেত্রে অবস্থানকালে একদিন মহাপ্রভু নিত্যানন্দপ্রভুকে কিছু গোপনে বললন ৷ তারপরেই নিত্যানন্দপ্রভু বাঙলায় এসে কালনায় শ্রীসূর্য্যদাস পণ্ডিতের দুই কন্যা জাহ্নবী ও বসুধাকে বিবাহ করলেন ৷ গোপন কথা এই যে, শ্রীমহাপ্রভুই শ্রীনিত্যানন্দকে বিবাহ করে নাম-প্রেম প্রচার করার অাদেশ দিয়েছিলেন ৷ নিত্যানন্দ স্বেচ্ছায় বিবাহ করেন নি ৷ তাঁর পক্ষে বিবাহ করা না করা সমান ৷ নিত্যানন্দপ্রভু সন্ন্যাসী কি গৃহস্থ এসব তর্ক নিত্যানন্দের পক্ষে খাটে না ৷ তিনি এসবের অতীত ৷ সে সময় সন্ন্যাস গ্রহণ করা ক্কচিৎ দেখা যেত ৷ সমাজের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখা সন্ন্যাসীর পক্ষে সম্ভব নয় ৷ মহাপ্রভু যে উদার সাধন ধারা অর্থাৎ নাম সংকীর্তন যা কলিযুগের জন্য সাধারণের পক্ষে সর্ব্বাপেক্ষা সহজ অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ সাধন পন্থা,তা সেকালে গৃহস্থ না হয়ে গৃহস্থ সমাজে প্রচার করা কঠিন ছিল ৷ সন্ন্যাসী যদি বেশী করে গৃহস্থের সঙ্গে মেলামেশা করেন, তবে তাঁর অাচরণে কটাক্ষ করার সম্ভাবনা বেশী ৷ কারণ সন্ন্যাসী ত এক গ্রামে, এক গৃহে কেবলমাত্র একদিনই থাকবেন তার বেশী থাকা তখনকার সন্ন্যাসী বা ত্যাগীদের পক্ষে একেবারে নিষিদ্ধ ছিল ৷

0 views0 comments
Be Inspired
bottom of page