UA-199656512-1
top of page

"(#পর্ব_নয়_পোষ্টনং_৩০)"


"(#পর্ব_নয়_পোষ্টনং_৩০)"


#নবদ্বীপের_এক_ব্রাহ্মণ

শ্রীনিত্যানন্দের অাচার, অাচরণ ও বেশভূষা দেখে মহাপ্রভুর নিকট নিত্যানন্দ সম্পর্কে তার সন্দেহ প্রকাশ করলে মহাপ্রভু তা নিরসন করে বলেন:—


"ধর্মব্যতিক্রমো দৃষ্ট ঈশ্বরাণাং চ সাহসম্ ৷ তেজীয়সাং ন দোষায় বহ্নেঃ সর্বভুজো যথা॥"

(ভাঃ-১০ম স্কন্ধ শ্রীশুক উবাচ)


সূর্য,অগ্নি প্রভৃতি ঈশ্বর(সমর্থ)- পুরুষগণকে কখনো কখনো ধর্মের উল্লঙ্ঘন এবং অনুচিত হঠকারিতা করতে দেখা যায় ৷ তেজস্বী পুরুষদের পক্ষে এগুলি দোষাবহ নয়,যূমন অগ্নিসর্বভুক হলেও তার জন্য তাঁর কোনো কলঙ্ক হয় না ৷ সেইরকম শ্রীনিত্যানন্দের পক্ষে সন্ন্যাসীদিগের অাচরণের ব্যতিক্রম তাঁর দোষের হেতু হয় না ৷ তিনি সমস্ত বিধি নিষেধের অতীত, মায়াবদ্ধ জীবের জন্যই বিধি-নিষেধ,মায়াতীত ভগবানের জন্য নয় ৷ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর তত্ত্ব না জেনে যে তাঁর অাচরণের নিন্দা করে সে জন্ম জন্ম বহু দুঃখ কষ্ট ভোগ করে ৷ মহা-অধিকারীও যদি নিন্দা বা বিদ্রুপ করে তাহলে তাঁকেও ক্লেশ ভোগ করতে হবে ৷

এভাবে মহাপ্রভু শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর অারো অলৌকিক মাহাত্ম্যের কথা বলেছেন:—

"নিত্যানন্দ স্বরূপ পরম অধিকারী ৷ অল্প ভাগ্যে তাহানে জানিতে নাহি পারি॥ অলৌকিক যেবা কিছু দেখ তান ৷ তাহাতে অাদর করিলে পাই ত্রাণ॥ পতিতের ত্রাণ লাগি তাঁর অবতার ৷ তাঁহা হৈতে সর্ব জীব পাইবে উদ্ধার॥

তাঁহার অাচার বিধি নিষেধের পার ৷ তাঁহারে বুঝিতে শক্তি অাছয়ে কাহার॥ না বুঝিয়া নিন্দে তাঁর চরিত্র অগাধ ৷ পাইয়াও বিষ্ণুভক্তি হয় তার বাধ॥

চল বিপ্র তুমি শীঘ্র নবদ্বীপে যাও ৷ এই কথা গিয়া তুমি সবারে বুঝাও॥"


নবদ্বীপের এক ব্রাহ্মণ নিত্যানন্দের কর্মপদ্ধতি নিয়ে নীলাচলে গিয়ে মহাপ্রভুর কাছে নালিশ করলে, মহাপ্রভু এইপ্রকার উপদেশ ঐ ব্রাহ্মণকে দিয়েছিলেন ৷ মহাপ্রভুর এরকম উপদেশ শুনে নবদ্বীপবাসী ব্রাহ্মণ অানন্দিত হলেন, এবং নিত্যানন্দপ্রভুর প্রতি তার গভীর বিশ্বাস লাভ হল ৷ এবং নিত্যানন্দপ্রভু(অবধূত) ঐ ব্রাহ্মণের মুখ থেকে সব শুনে ঐ ব্রাহ্মণ নিত্যানন্দের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে নিত্যানন্দপ্রভুও করুণা করে তাকে কৃপা করেন ৷


কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে উল্লেখ করেছেন:—

"শ্রীরূপ রঘুনাথ পদে যার অাশ ৷ চৈতন্যচরিতামৃত কহে কৃষ্ণদাস॥


শ্রীরূপ রঘুনাথের কৃপা ছাড়া অামরা শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুকে বুঝতে পারব না, এবং শ্রীনিত্যানন্দপ্রভুর কৃপা ছাড়াও অামরা শ্রীচৈতন্যলীলায় ও শ্রীবৃন্দাবনলীলায় প্রবেশ করতে পারব না৷ "নিতাইয়ের করুণা হবে ব্রজে রাধাকৃষ্ণ পাবে"৷ যদি নিত্যানন্দের কৃপালাভ করে তাহলে সকল বৈষ্ণবের কৃপালাভ হবে এবং মহাপ্রভুরও কৃপালাভ হবে,শাস্ত্রে এর উদাহরণ অাছে ৷

রঘুনাথ দাস গোস্বামীর দিকে লক্ষ্য করলেই তা বোঝা যাবে, তিনি শুধু মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুরই কৃপাই চেয়ে ছিলেন সমস্ত ধন-সম্পত্তি ত্যাগ করে ৷ একবার তো মহাপ্রভু শান্তিপুর থেকে রঘুনাথকে ফেরৎ পাঠিয়ে দিলেন:—

"মর্কট বৈরাগ্য না কর লোক দেখাইয়া ৷ যথাযোগ্য বিষয়ভুঞ্জ অনাসক্ত হইয়া॥" (চৈ,চ,২/১৬/২৩৭)

যখন একবার পানিহাটিতে শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু এসেছিলেন তখন রঘুনাথ তাঁর কাছে এসেছিলেন, তখন শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু তাঁকে কৃপা করে বললেন:—

"দধি,চিড়া ভক্ষণ করাহ মোর গণে ৷ শুনিয়া অানন্দ হৈল রঘুনাথের মনে॥"(চৈ,চ,৩/৬/৫০)

শ্রীরাঘুনাথ গোস্বামী সঙ্গে সঙ্গে সব ব্যবস্থা করলেন এবং বৈষ্ণবদের কাছে এটি চিড়া-দধি

মহোৎসব নামে পরিচিত ৷ এটি রঘুনাথ গোস্বামীর চৈতন্যলীলায় প্রবেশের জন্য শ্রীনিত্যানন্দের "দণ্ড-রূপ কৃপা"৷ শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু শ্রীরঘুনাথ গোস্বামীর উপর এত খুশী হলেন যে তাঁর শ্রীচরণপদ্ম রঘুনাথ দাস গোস্বামীর মাথায় রেখে তাঁকে কৃপা করলেন যে, শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভু এবারে নিশ্চয়ই তাঁকে কৃপা করে অস্বীকার করবেন না ৷ তারপর দেখা গেল সুযোগ বুঝে রঘুনাথ গাহ থেকে পালাতে সক্ষম হলেন ও মহাপ্রভুও তাঁকে কৃপাপূর্বক গ্রহণ করে স্বরূপের হাতে সমর্পণ করলেন ৷ তাহলৈ শ্রীনিত্যানন্দের কৃপায় রঘুনাথ গৃহবন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করে মহাপ্রভুর সেবায় যোগ দিতে পারলেন ৷

3 views0 comments
Be Inspired
bottom of page