UA-199656512-1
top of page

**************** ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^❤ #বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব !❤ পর্ব-৪

চলবে

**************** ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^❤ #বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব !❤ ️ (#পর্ব_০৪,চলবে)




"(#পর্ব_এক_পোষ্টনং_০১)"

"#সনৎমিত্রঠাকুর !"

~~~~~~~


***#চৈতন্যদেবের_অান্দোলন-:—ঊনিশ শতকের পাশ্চাত্যমুখী নবজাগরণ শুধু শিক্ষিত বাঙালী ও শহরকেন্দ্রিক ছিল ; অার চৈতন্যযুগের চৈতন্যময় অান্দোলন অাপামর বাঙালীজনের মধ্যে পরিব্যাপ্ত সর্বাত্মক বৈপ্লবিক চেতনার প্রথম এবং সার্থক উন্মেষ ৷ ইতিহাস বলছে , বাঙালী চিত্তের বহু বহু শতাব্দী ধ'রে সঞ্চিত ক্লেদকলুষকে হরিচরণাশ্রিত প্রেমের বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অমিত সুদর্শনতনু ও বিশাল পুরুষাকারসম্পন্ন এই জনগণমন-অধিনায়কের বিপ্লব ৷ বাংলার প্রথম এই রুদ্রসম—তেজস্বী মহাবিদ্রোহীর কণ্ঠেই সার্থক উদ্ গীত হয়ে উঠেছিল যুগ যুগ ব্যাপী লাঞ্ছিত, নিপিড়ীত ও অবহেলিত মানবাত্মার প্রতিবাদের ভাষা—নাম—সংকীর্তন ৷ কায়েমি_স্বার্থ—সর্বস্ব বিরুদ্ধবাদীদের সকল অাপত্তির কোলাহলকে ছাপিয়ে , অত্যাচারী শাসকের সকল নিষেধাজ্ঞাকে স্তম্ভিত ক'রে, অাকাশ—বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছিল বাংলায় প্রথম এই সার্থক সাম্যের গান"'*৷


"'#ইতিহাস_স্বীকার করেছে , তথাকথিত বাঙালী জাতিকে অধঃপাতে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষার জন্য যেমন "কোমলে কোমল ও কঠোরে কঠোর" এক মহামানবের প্রয়োজন ছিল , অভাবিত ভাবেই , তেমনই এক কল্পনাতীত মহামানবিক সত্তা নিয়েই অাবির্ভূত হয়েছিলেন এই প্রথম সমাজ—সংস্কারক ৷

ঐতিহাসিকের মূল্যায়ন—ব্রাহ্মণকুলজাত এই অসীম—বিক্রমী যোদ্ধার কল্যাণেই বাঙালী জাতি সেদিন সর্বাত্মক অবক্ষয়ের অাক্রমণকে প্রতিহত করতে পেরেছিলই শুধু নয় , অরক্তক্ষয়ী সংগ্রামে সামুহিকভাবে বিজয়ীও হয়েছিল৷

ইতিহাসের চুড়ান্ত সমীক্ষা—"শ্রীচৈতন্যের সমাজদর্শন বা পলিটিক্যাল ফিলসফি তাঁর প্রায় সমসাময়িক খ্রিষ্টীয় অান্দোলনের (মার্টিন লুথার) কথা মনে করিয়ে দেয় ৷ মনে_করিয়ে দেয় বামপন্হার অারেক পুরোধা ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের মন্তব্য....মহামতি মার্কস তো সরাসরি শ্রীচৈতন্যের গণ অান্দোলন (তথা শ্রেণীযুদ্ধ)—কে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন , জাতপাতের বিরুদ্ধে সংগ্রামী উদারনীতির প্রবক্তা শ্রীচৈতন্য একজন সাচ্চা রিফরমার ৷


'#শ্রীচৈতন্যের_বৈষ্ণব অান্দোলনে যেমন অস্পৃশ্যতা ইত্যাদি ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা হয়েছে , তেমনই নারী জাতিকে দেওয়া হয়েছে এক বিশেষ সস্মান ৷ এই অধিকারে হঠাৎ করেই স্ত্রীজাতির সামাজিক মর্যাদা ও শিক্ষার পথ খুলে গিয়েছিল ৷

"'মহাত্মা_গান্ধীর সত্যাগ্রহের শিক্ষা শ্রীচৈতন্যের অহিংস—পন্হায় শত্রুবিজয়ের ফসল ....স্বামী বিবেকানন্দের কণ্ঠে শ্রীচৈতন্যেরই প্রতিধ্বনি—'নীচজাতি , মূর্খ , দরিদ্র , অজ্ঞ , মুচি , মেথর , তোমার রক্ত , তোমার ভাই ইত্যাদি ইত্যাদি"'*৷

শ্রীচৈতন্য_মহাপ্রভু, এমনই এক মহান ব্যক্তিত্ব,তাঁর নামানুসারে বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যযুগ নামে এক নবজাগরণের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা, তা-ই সমগ্র বাংলার মানুষকে অাকৃষ্ট করেছে চৈতন্যমহাপ্রভুর জীবন-দর্শন উপলব্ধি করার অভিলাষে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ বাংলা ভাষাকে অায়ত্ব করেছে ৷


#কবি_নজরুল_ইসলাম শ্রীচৈতন্যদেবের গুণ গেয়ে বলেছেন—

"বর্ণচোরা ঠাকুর এ রসের নদীয়ায়, তোরা দেখবি যদি অায় ৷ অাবার কেউ বলে তায় গৌরহরি, কেউ অবতার বলে তায় ॥

কবি_সত্যেন্দ্রনাথ_দত্ত তার "অামরা" কবিতায়—

"ঘরের ছেলের চক্ষে দেখেছি বিশ্বভূপের ছায়া ৷ বাঙালির হিয়া অমিয় মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া ॥

বাঙালির অমৃতময় হৃদয় হরণ করে যে কায়া ধারণ করেছে, তা হলো নিমাই, যার হৃদয় কমলের চেয়েও কোমল ৷

বিশ্বকবি_রবীন্দ্রনাথ_ঠাকুর

বলেন—"অামাদের বাঙালির মধ্য থেকেই তো চৈতন্য জন্মেছিলেন, তিনি তো বিঘা-কাঠার মধ্যে বাস করতেন না, তিনি তো সমস্ত মানবকে অাপনার করে নিয়ে ছিলেন, তিনি বিস্তৃত মানবপ্রেমে বঙ্গভূমিকে জ্যোতির্ময়ী করে তুলে ছিলেন ৷"***


***#চৈতন্যসম্ভব_এর_কথায়--চৈতন্যের মধ্যে বিপ্লবী খুঁজে পায় জনঅান্দোলনের জয়ধ্বনি অার রক্ষণশীল খুঁজে পায় অাধ্যাত্মিকতার সর্ব্বোচ্চ শিখর ৷ নাস্তিক এই অান্দোলনে মানব অস্তিত্বের অবলম্বন খুঁজে পায় অার অাস্তিক এই অান্দোলনে পায় ঈশ্বরের বিভূতি৷ একাধিক কমুনিষ্ট নেতা চৈতন্যদেবের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন গৌড়বঙ্গের প্রথম কমিউনিষ্ট, অার গান্ধি স্বয়ং খুঁজে পেয়েছিলেন মধ্যযুগের প্রথম অহিংস অান্দোলনের নজির ৷ চৈতন্যস্মরণে রত হন যুক্তিবাদী থেকে ভাববাদী, পণ্ডিত থেকে অজ্ঞ ৷ তাঁর নামে গৌরাঙ্গ বলে উদ্বাহু তুলে প্রায় সকলে নৃত্য করেছে ৷ ব্রাহ্মণ অার অার চণ্ডাল এই চৈতন্যদেবের অান্দোলনে পরস্পরের হাত ধরে নৃত্য করেছ ৷ চৈতন্যদেবর নামে এই অান্দোলনে কবির সঙ্গে অকবির অাঁতাত হয়, কেজোর সঙ্গে অকেজোর মিত্রতা হয় ৷ এই অান্দোলন সমস্ত গৌড়বঙ্গীয়ের মহামিলনমেলা ৷ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জাতির অভিজ্ঞান ৷


#যে_নবদ্বীপে চৈতন্যদেব অবতীর্ণ, সে নবদ্বীপ তখন ভারত শ্রেষ্ঠ, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সার স্বত পীঠস্থান ৷ জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শনচর্চায় নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য ছিল ৷ মধ্যেযুগের অন্ধকারে নবদ্বীপের এই সুতীব্র অালোকচ্ছটাকে বঙ্কিমচন্দ্র বাঙালির প্রথম রেনেসাঁস অাখ্যা দিয়েছিলেন ৷ অামাদিগেরও একবার সেদিন হয়েছিল ৷ অকস্মাৎ নবদ্বীপে চৈতন্যচন্দ্রোদয় ; তারপর রূপ-সনাতন প্রভৃতি অসংখ্য কবি ধর্ম্মতত্ত্ববিৎ পণ্ডিত ৷ এদিকে দর্শনে রঘুনাথ শিরোমণি, গদাধর, জগদ্বীশ ;স্মৃতিতে রঘুনন্দন এবং তৎপরগামিগণ ৷ অাবার বাংলা কাব্যের জলোচ্ছ্বাস ৷ বিদ্যাপতি, চণ্ডিদাস, চৈতন্যদেবের পূর্বগামী , কিন্তু তারপরে চৈতন্যদেবের পরবর্ত্তিনী যে বাংলা কৃষ্ণবিষয়িণী কবিতা, তা অপরিমেয় তেজস্বিনী, জগতে অতুলনীয়া; সে কোথা হতে ? অামাদের রেনেসাঁস কোথা হতে ?

কোথা হতে সহসা এই জাতির এই মানসিক উদ্দীপ্তি হল ?


সেযুগের_ভারতে সার্বভৌম বোধকরি শ্রেষ্ঠতম পণ্ডিত-দার্শনিক-নৈয়ানিক, পরে তিনি পুরীতে চলে যান ৷ এবং নীলাচলেও মহাপ্রভুর (চৈতন্যদেবের) অাগমনের জমি প্রস্তুত হয় ৷ চৈতন্যদেবের অান্দোলন পাণ্ডিত্বের বিরোধী নয়, কিন্তু অবভাস প্রশ্রয় দেয় না ৷ চৈতন্যদেবের ভক্তি অান্দোলন ঋজু ও স্পষ্টবক্তা, সেজন্য নব্যন্যায়ের দাঁতভাঙা পাণ্ডিত্যকে পাষণ্ডী অাখ্যা দেওয়া হয়, চৈতন্যদেবের অান্দোলন জ্ঞানমার্গের বিরোধী নয়,তবে সহজিয়া লোকায়ত চেতনা বরাবরই জ্ঞানমার্গের নামে অবভাসের যথেচ্ছাচারের বিরোধী ৷ কারণ চৈতন্যদেবের উথ্বান বাঙালির মধ্যযুগের প্রথম জনঅান্দোলন,অার অবভাসের প্রধান উদ্দেশ্য গণমানুষকে বিভ্রান্ত করা ৷ চৈতন্যদেবের অান্দোলন "বনমালীর পরজন্মের রাধা" হওয়ার অান্দোলনও বটে ৷ সেজন্য এই অান্দোলন পুরুষতান্ত্রিকতাকে সমূলে অাঘাত করে ৷ সহজিয়া সাম্যের চেতনা শুধু তাত্ত্বিক স্তরে নয়, ব্যবহারিক স্তরেও ছিল ৷ অসংখ্য নারী, অসংখ্য অব্রাহ্মণ গুরুপদে অাসীন হয়েছিলেন গৌড়ীয় বৈষ্ণব অান্দোলনে,এই অান্দোলনের মধ্যে স্থানে স্থানে ব্রাহ্মণ্যবাদী পুরুষতান্ত্রিক ঝোঁক সত্ত্বেও ৷

"#জয়_মহাপ্রভু !"

0 views0 comments
Be Inspired
bottom of page