UA-199656512-1
top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷ (#পর্ব_চার_পোষ্ট_১৪)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷

(#পর্ব_চার_পোষ্ট_১৪)


#কৃষ্ণদাস_কবিরাজ_গ্রন্থশেষে

নিজের যে পরিচয় দিয়েছেন তাও এই মহৎ কাব্য ও মহৎ বৈষ্ণবের উপযোগী;—

"অামি অতি ক্ষূদ্র জীব পক্ষী রাঙ্গাটুনি ৷ সে যৈছে তৃষ্ণায় পিয়ে সমুদ্রের পানি॥ তৈছে অামি এককণ ছুঁইল লীলার ৷ এই দৃষ্টান্তে জানিহ প্রভুর লীলার বিস্তার॥ অামি লিখি এহো মিথ্যা করি অভিমান ৷ অামার শরীর কাষ্ঠপুতলী সমান॥ বৃদ্ধ জরাতুর অামি অন্ধ বধির ৷ হস্ত হালে মনোবুদ্ধি নহে মোর স্থির॥ (চৈ,চ,- ৩/২০৮১—৮৪ )

অার সে কাহিনী যদি সত্য হয় যে এই অপূর্ব গ্রন্থ বীর হাম্বীরের দস্যুদল লুঠ করে নিয়ে গিয়েছিল, তাহলে তো মানতে হয়; সত্য-সত্যই এরূপ গ্রন্থ লোপের ভয়ে সেই বৃদ্ধ কবির প্রাণবিয়োগ ঘটতে পারে ৷ কিন্তু ভগবানের কৃপায় সে গ্রন্থ বিলুপ্ত হয়নি, তাই কৃষ্ণদাস কবিরাজ অমর হয়ে অাছেন; চৈতন্যলীলাও তাই তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ-সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয় নাই ৷ "সর্বোপরি বাঙলার মধ্যযুগের সাহিত্য সমুজ্জ্বল হয়ে অাছে কবিরাজ গোস্বামীর শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত সুমহৎ কীর্তিতে ৷"

#জয়ানন্দের_চৈতন্যমঙ্গল'ও

প্রচলিত গ্রন্থ,এটি সাধারণ মানুষের (অানু;১৫৭০-১৬০০) জন্য লেখা,জয়ানন্দের কাব্যও পাঁচালী করে গাওয়া হত ৷ 'গোবিন্দদাসের করচা' নিয়ে বাঙলা সাহিত্যে ও বৈষ্ণব-সমাজে মতভেদ অাছে ৷ অন্যান্য ভক্ত-জীবনী চৈতন্যদেবের মধ্যেই তাঁর প্রধান পারিষদ্ অদ্বৈত, নিত্যানন্দ ও হরিদাসের কথা বৈষ্ণব সমাজে সমাদৃত , এর মধ্যে লিখিত হয়েছে অদ্বৈত অাচার্য ও তাঁর পত্নী সীতাদেবীর জীবনী ৷ ষোড়শ শতকের জীবনী কাব্যে যেমন চৈতন্যদেব ও অদ্বৈতই বিষয়বস্তু, সপ্তদশ শতকের জীবনী কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু তেমনি শ্রীনিবাস ও নরোত্তমদাস ঠাকুর ৷ তাছাড়াও নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ সপ্তদশ শতকের শেষে বৈষ্ণব-প্রেরণা অনেক দিকে মন্দীভূত হয়ে অাসে সত্য ৷ কিন্তু মহাজনদের জীবনী রচনা বা মহাজনদের গণাখ্যান, শাখা-নির্ণয় প্রভৃতি সমভাবেই চলে, বৈষ্ণব অান্দোলনের ইতিহাসে সে-সবের মূল্য অাছে, প্রেমদাস, মনোহরদাস ও বিশেষকরে নরহরি চক্রবর্তী সেই বৈষ্ণব ইতিহাসের ধারাকে অব্যাহত রাখেন;অষ্টাদশ শতকের মানুষ হলেও এ জন্যই এ প্রসঙ্গে তাঁদের নাম স্মরণীয় ৷ (জয় মহাপ্রভু)

0 views0 comments
Be Inspired
bottom of page