UA-199656512-1
top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷ (#পর্ব_চার_পোষ্ট_১৬)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷

(#পর্ব_চার_পোষ্ট_১৬)


#পদাবলীর_পদসমূহ_বিষয় অনুসারে হয় নি, বৈষ্ণব গীতি কবিতাগুলি সেভাবে ভাগ করলে চার ভাগে পড়ে;—(১) গৌর-পদাবলী;—এ-সব পদে চৈতন্য-লীলা বর্ণিত হয়েছে,ভাগবতের শ্রীকৃষ্ণ-লীলারই তা নতুন রূপ,এ-কথাই এ-সব পদের প্রতিপাদ্য ৷ (২) ভজন পদাবলী;— এ-সব বন্দনাগীতি,প্রার্থনা-কাব্য, গুরু ও মহাজনদের উদ্দেশ্যে রচিত ৷ (৩) রাধাকৃষ্ণ পদাবলী;— এই পদাবলী বলতে বোঝায় প্রধানত ব্রজলীলার কাব্য ৷ এ বহুদিনের প্রচলিত একটি ধারা, তখন এ কাহিনী ছিল অাদিরসের বিষয়-বস্তু, চৈতন্যদেবের পর থেকে তা হয়ে উঠল প্রেমভক্তিরসের অপূর্ব অাশ্রয় ৷ শ্রীরাধা অার রাধা নেই, চৈতন্যদেবের তীব্র অাকুলতার মধ্য দিয়ে চৈতন্যদেব মানব-অাত্মার চিরন্তন বিগ্রহ হয়ে উঠলেন ৷ অবশ্য গৌপীদের মধুর-রস ছাড়াও, কৃষ্ণ-যশোদার অাশ্রয়ে বাৎসল্য রস অার গোপ-বালকদের অাশ্রয়ে সখ্যরসও এই অাধ্যাত্ম-রাগরঞ্জিত কাব্যধারায় স্থান লাভ করেছে ৷ (৪) রাগাত্মিকা পদাবলী;—এর প্রাচীনত্ব অধিক, চর্যাপদে এই ধারারই নিদর্শন অাছে ৷ অার এ ধারা এসে একেবারে অাধুনিক অাউল-বাউল গানে ঠেকেছে , বৈষ্ণব সহজিয়াদের হাতে এ ধারার এমন কয়েকটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শনও অাছে যার তুলনা নাই ৷ অবশ্য সাধারণত গুহ্য সাধন-তত্ত্বের বিষর বলে অনেক সময়ে এ-সব পদ দুর্বোধ্যও বটে ৷ পদাবলীর শ্রেষ্ঠ যুগ গিয়েছে ষোড়শ শতাব্দীতে,তখনো চৈতন্যদেবের প্রেমোন্মাদনায় তা মঞ্জরিত ৷ সপ্তদশ শতাব্দীতেও সে প্রেরণা অার ততটা প্রাণোচ্ছল না থাকলেও তবু তখনো সৌন্দর্য, স্বচ্ছতা,অকৃত্রিমতা,এবং বিশেষ করে, কাব্য-কৌশল সবই তাতে সুপ্রচুর ৷পদাবলীর সংগ্রহ-গ্রন্থসমুহে রাধাকৃষ্ণের প্রেম-কাহিনীর গীতি কবিতাগুলি সাজান হয়েছে বৈষ্ণব রস-তত্ত্বের নিয়মানুযায়ী বয়ঃসন্ধি,পূর্বরাগ, দৌত্য,অভিসার,সম্ভোগ,মানবিরহ, প্রেমবৈচিন্ত্য,ভাবসন্মেলন ইত্যাদি অনুক্রমে এবং নায়িকা-বিভাগের নিয়মে বাঁধা নানা পার্থক্য অনুযায়ী-যথা মানিনী, খণ্ডিতা,বিপ্রলব্ধা ইত্যাদি , অবশ্য অনেক সময়েই গৌরলীলার পদ দিয়ে তা অারম্ভ ৷ পদকর্তারা কেউ কেউ খণ্ড কবিতা বা খণ্ডগীত রচনা করেছেন ৷অনেকে ধারাবাহিক রাধাকৃষ্ণের প্রেম-লীলাও বর্ণনা করেছেন ৷ অারও অনেকে চেয়েছেন পদাবলীতে রাধাকৃষ্ণের চব্বিশ প্রহরের অষ্টকালিক লীলা বর্ণনা করতে ৷ পদাবলীর অজস্র প্রাচুর্যের মধ্যেও তাই সৃষ্টি-লক্ষণ এত চোখে পড়ে ৷

#চৈতন্যপর্বের_পদকর্তাদের রাধাকৃষ্ণ-লীলার পদ ও চৈতন্য-লীলার পদ ভাবে ভাষায় ক্রমেই এত প্রথাগত ও গতানুগতিক হয়ে উঠেছে যে, এই সব পদের পদকর্তাকে অাবিস্কার করাও তাই দুঃসাধ্য ,অনেক ক্ষেত্রে তা অসাধ্য,কারণ একই পদে হয়তো বিভিন্ন পুঁথিতে বিভিন্ন ভণিতা পাওয়া যায় ৷ চণ্ডিদাস ও বিদ্যাপতি প্রাক-চৈতন্য যুগের কবি ৷ তাঁরা দু'জনে দুটি বিশিষ্ট ধারার স্রষ্টা-ভাষায় ও ভাবে ৷ এঁদের পদে চৈতন্যদেবের উল্লেখ থাকবে না,এবং চৈতন্য-প্রভাবেরও ছাপ থাকার কথা নয়৷

চৈতন্যদেবের সময় ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে অামরা পাই প্রথমত চৈতন্য-সমকালীন মহাজনদের যেমন;-মুরারী গুপ্ত, যিনি প্রথম চৈতন্যদেবের জীবনীকার তিনি পদ লিখলেন;-

"পিরীতি অাগুনি জ্বালি

সকলি পোড়াইয়াছি

জাতি কুল শীল অভিমান ৷"

এবং

"স্রোত-বিথার জলে

এই তনু ভাসাইয়াছি

কি করিবে কুলের কুকুরে ৷"


#শ্রীখণ্ডের_নরহরি_সরকার_ও বাসুদেব ঘোষ চৈতন্য-লীলার প্রথম দিককার পদকার ও ভক্ত ৷ (নরোত্তমবিলাস ও ভক্তিরত্নাকরের রচয়িতা নরহরি চক্রবর্তীর) নরহরি সরকারের নামে সহজিয়া পদ রয়েছে, বাসুদেব ঘোষ লেখেন অনেকগুলি পদ,অার তাঁর অকৃত্রিমতা সর্বজন-স্বীকৃত ৷ তিনি বাৎসল্যরসের সৃষ্টিতে তিনি কৃতী ৷ বংশীবদন(চট্র) ও ছিলেন অার এক সমসাময়িক পদকর্তা ৷ এর পরেই উল্লেখযোগ্য ষোড়শ শতাব্দীর অন্যান্য পদকর্তাদের মধ্যে চৈতন্যমঙ্গলের রচয়িতা লোচনদাস-যাঁর ছন্দের দক্ষ হাতের স্বাক্ষর কেউ ভুল করতে পারে না;—

"ব্রজপুরে রূপ নগরে রসের নদী বয় ৷ তীর বহিয়া ঢেউ অাসিয়া লাগিয়া গোরা গায় ৷ রূপ-ভাবনা গলায় সোনা ঘূচিবে মনের ধাঁধা ৷ রূপের ধারা বাউল পারা বহিছে জগত-অাঁধা॥ রূপ-রসে জগত ভাসে এ চৌদ্দ ভুবনে ৷ খাইলে বজে দেখিলে মজে কহিলে কেবা জানে ॥"

#বলরাম_দাসের নামও উল্লেখ যোগ্য,(যদিও এ নামেও একাধিক পদকর্তা ছিলেন) তবুও তাঁদের মধ্যে যিনি স্মরণীয় তিনি এ সময়কারই কবি,অার বাৎসল্যরসের বর্ণনায় এই বলরাম দাস অতুলনীয়;—

"শ্রীদাম সুদাম দাম

শুন ওরে বলরাম

মিনতি করিয়ে তো সভারে ৷

বন কত অতিদূরে

নব-তৃণ-কুশাঙ্কুরে

গোপাল লৈয়া না যাইহ দুরে॥

সখাগণ অাছে পাছে

গোপাল করিয়া মাঝে

ধীরে ধীরে করিহ গমন ৷

নব-তৃণাঙ্কুর অাগে

রাঙ্গা পায় জানি লাগে

প্রবোধ না মানে মোর মন॥"

কারণ, তাঁর মায়ের মন,এবং বাঙালী মায়ের মন,-কাঁটা যদি ফোটে তবে যারা অাগে পাছে যাবে সেই শ্রীদাম সুদামের পায়েই ফুটুক, অামার গোপালের পায়ে যেন না ফোটে ৷

1 view0 comments
Be Inspired
bottom of page