UA-199656512-1
top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷ (পোষ্ট নং-১২)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷

(পোষ্ট নং-১২)


(#পর্ব_চার-১২)


#শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত_বৈষ্ণবদের

কাছে মহামূল্যবান গ্রন্থ হলেও চৈতন্যদেবের জীবন-চরিত তার মুখ্য প্রতিপাদ্য নয়,মুখ্য প্রতিপাদ্য সেই চরিতামৃত, প্রেম ও ভক্তিরসের যে বিগ্রহরূপে চৈতন্যদেব অারাধ্য সেই প্রেম ও ভক্তিবাদের ব্যাখ্যান ৷ চৈতন্যদেবের জীবনী অপেক্ষা যুক্তিতর্ক দিয়ে বৈষ্ণব দর্শনের প্রতিষ্ঠাই ছিল কৃষ্ণদাস কবিরাজের লক্ষ্য ৷ এই দুরুহ তত্ত্ব তিনি ব্যাখ্যা করেছেন দার্শনিকের মতো বা বৈজ্ঞানিকের মতো সূত্রাকারে,সহজ নিরলঙ্কার সুস্পষ্ট সেই ভাষা ৷ এই দার্শনিক বিশ্লেষণ বাঙ্লা ভাষার অাশ্চর্য শক্তিরও পরিচায়ক ৷ অাজকের চিন্তাশীল বাঙালীরাও এ গ্রন্থ থেকে ভরসা পেতে পারেন-বাঙ্লা ভাষার শক্তি সম্পর্কে ৷

এই বৈষ্ণব-তত্ত্ব চৈতন্যদেবের জীবন ও উপদেশকে অাশ্রয় করেই বিকশিত ,অার কৃষ্ণদাস কবিরাজ সেই জীবন বর্ণনায় অদ্ভুত রকমের সত্যনিষ্ঠ ৷ চৈতন্যদেবের জন্মের প্রায় একশত বৎসর পরে তাঁর এই গ্রন্থ লিখিত হয় ৷ চৈতন্যদেবের জীবনলীলার সম্বন্ধে কৃষ্ণদাস কবিরাজ যে সব তথ্যের অবতারণা করেছেন,তার প্রত্যেকটিই প্রমাণ স্বরূপ , কার কাছ থেকে তিনি জেনেছেন,তাও উল্লেখ করেছেন ৷ এক-একটি সুন্দর উপমার মধ্য দিয়ে কঠিন তত্ত্ব এক এক সময়ে উদ্ভাসিত করে তুলেছেন কবিরাজ গোস্বামী ;—

"অনন্ত স্ফটিকে যৈছে এক সূর্য ভাসে ৷ তৈছে জীব গোবিন্দের অংশ পরকাশে ॥" চৈ,চ,১/২/১৩,

এক সূর্য যেমন অনন্ত স্ফটিকে (এক প্রকার স্বচ্ছ প্রস্তর) প্রতিবিম্বিত হয়ে অনন্ত রূপে প্রকাশিত হয়,সেইরূপ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত কোটি জীবের প্রত্যেকের হৃদয়ে পরমাত্মারূপে প্রকাশিত হন ৷

অাবার অবিচ্ছেদ্য তত্ত্বের ব্যাখ্যায় কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন ;—

"মৃগমদ তার গন্ধ,যৈছে অবিচ্ছেদ ৷ অগ্নি জ্বালাতে যৈছে নাহি কভু ভেদ ॥ রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ ৷ লীলা-রস অাস্বাদিতে ধরে দুইরূপ ॥ ( চৈ,চ,-১/৪/৮৩-৮৪ )- শ্রীরাধা কৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি ৷ অার শ্রীকৃষ্ণ হলেন সেই শক্তির অধিপতি শক্তিমান ৷ শ্রীরাধা পূর্ণশক্তি অার শ্রীকৃষ্ণ হলেন পূর্ণ শক্তিমান ৷ সুতরাং শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে সম্বন্ধ হল শক্তি ও শক্তিমানের সম্বন্ধ ৷ শক্তি ও শক্তিমানের অভেদহেতু শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণে কোনো ভেদ নেই ৷ কস্তুরী ও তার গন্ধে যেমন ভেদ নেই,ঠিক তেমনি পূর্ণশক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ ও পূর্ণশক্তি শ্রীরাধাতেও কোনো ভেদ নেই ৷

তারপরে সেই প্রসিদ্ধ পার্থক্য বিশ্লেষণ-কাম ও প্রেমের;—

"কাম প্রেম দোঁহাকার বিভিন্ন লক্ষণ ৷ লৌহ অার হেম যৈছে স্বরূপে বিলক্ষণ॥ অাতেন্দ্রিয়-প্রীতি ইচ্ছা তারে বলি 'কাম' ৷ কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা-ধরে প্রেম 'নাম'॥" (চৈ,চ,-১/৪/১৩৯-১৪০)

এবং ;—

"কৃষ্ণপ্রেম সুনির্মল, যেন শুদ্ধ গঙ্গাজল, সেই প্রেমা অমৃতের সিন্ধু ৷ নির্মল সে অনুরাগে, না লুকায় অন্য দাগে , শুক্ল ভস্ত্রে যৈছে মসীবিন্দু॥" চৈ,চ,২/২/৪২)

অথচ ;—

"এই প্রেমার অাস্বাদন, তপ্ত ইক্ষু চর্বণ, মুখ জ্বলে, না যায় ত্যজন ৷

সেই প্রেমা যার মনে, তার বিক্রম সেই জানে, বিষামৃতে একত্র মিলন॥"(চৈ,চ,২/২/৪৫) অর্থাৎ—

তপ্ত ইক্ষু-চর্বণ_ইক্ষুদণ্ড অাগুণে ঝলসে তপ্ত থাকতে থাকতে চিবিয়ে খেলে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে ৷ তবে তপ্ত ইক্ষু মুখে রাখা নিতান্ত কষ্টকর হলেও অত্যধিক সুস্বাদুবশত ত্যাগ করা যায় না ৷ ঠিক কৃষ্ণপ্রেমও তেমনি,বাইরে বিষজ্বালার মতো কষ্টকর হলেও ভিতরে অনির্বচনীয় অানন্দের অনুভব হয়—তাই কৃষ্ণপ্রেম ত্যাগ করা যায় না,তা পরম উপাদেয় ৷

5 views0 comments
Be Inspired
bottom of page