UA-199656512-1
top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্য৷ (#পর্ব_০৬_চলবে)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্য৷

(#পর্ব_০৬_চলবে)




#বৈষ্ণব_অান্দোলনে_চৈতন্যদেবের_অবদান;—

(#পর্ব_তিন_পোষ্টনং_০৬)


#বাংলার_ধর্মীয়_জাতপাতের

সংকটময় মুহূর্তে চৈতন্যদেব অাবির্ভূত হয়েছিলেন ৷ সর্বনাশা

ব্রাহ্মণ্যবাদের জাতিভেদ প্রথা ও অস্পৃশ্যতার বিরূদ্ধে চৈতন্যদেব বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন ৷ চৈতন্যদেব প্রচার করলেন তাঁর উদার বৈষ্ণব মতবাদ ৷ এখানে ব্রাহ্মণ-শূদ্র,মুচি-মেথর, হিন্দু-মুসলমান কোন জাতিভেদ ছিল না ৷ তিনি স্বয়ং উচ্চশ্রেনীর ব্রাহ্মণ হয়েও পেশা ভিত্তিক জাতি সমূহের লোকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক করে তাদের কাছে টেনে নিলেন,বুকে জড়িয়ে ধরলেন ৷ তাইতো যবন হরিদাসও তাঁর ভক্ত হতে পেরেছিলেন,তাঁকেও তিনি কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন ৷ চৈতন্যদেবের কাছে সবাই সমান ছিলেন,সবাই মানুষ ৷ তাইতো তিনি বললেন;—

"চণ্ডালোপী দ্বিজশ্রেষ্ঠ হরিভক্তি পরায়ন ৷ হরিভক্তি বিহীনশ্চ বিপ্রহপি শপচাধম ॥" অর্থাৎ;—

একজন চণ্ডালও দ্বিজ থেকে শ্রেষ্ঠ যদি তার মধ্যে হরিভক্তি থাকে, ঈশ্বরের প্রতি প্রেম থাকে ৷ অার কেউ যদি বিপ্র হয়ে জন্ম নিয়েও হরিভক্তি বিহীন হয় তাহলে সে কুকুরের চেয়েও অধম ৷ অাবার তিনি রণকণ্ঠে বললেন;-


"কিবা বিপ্র কিবা নামী শূদ্র নয় ?

যেই কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়॥

#সেযুগের_সাপেক্ষে_বিচার করলে, এই বানী কত বড় বৈপ্লবিক তা সহজেই বোঝা যায় ৷

বাংলায় বৈষ্ণব গুরুদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ছিল ৷ কোন কোন বৈষ্ণব ছিলেন পঞ্চোপাসক ৷ কেউ কৃষ্ণের স্বকীয় লীলার তত্ত্ব মানতেন ৷ যাঁরা পরকীয়া বাদী ছিলেন,তাঁদের মধ্যে একদল সেই লীলার স্মরণ,মনন, এতে বিশ্বাস স্থাপন করেন ৷ কিন্তু অন্যান্য বহুদল ও গোষ্টী পরকীয়া তত্ত্বকে বাস্তবে নায়িকা সাধনাতে রূপান্তরিত করেন ৷ তারই চরম পরিণতিতে চূড়াধারী,বাউল, বাওলা, শিষ্যাবিলাসী, কিশোরীভজন,সহজ,গুরুপ্রসাদী প্রভৃতি গুরুবাদী গোষ্ঠীর উদ্ভব হল ৷ অাউল-বাউলেরা অাবার বৈষ্ণবীয় তত্ত্বের সঙ্গে সুফীতত্ত্ব মিশিয়ে নতুনরূপ দিলেন ৷ নিম্নবর্গের বৈষ্ণব গুরুরা শিষ্যদের শুধু মন্ত্র দিতেন,যারা মন্ত্র পেতেন তাদের অবশ্য কিছু নিয়ম বিধি পালন করতে হত ৷ কিন্তু তাতে সামগ্রিকভাবে তাদের জীবনের ও সমাজের কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি ৷ বাংলার বিভিন্ন জাতির লোকেরা বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেন,বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করার পর তাদের বলা হয় জাত বৈষ্ণব ৷ এই জাত বৈষ্ণবদের জাত থাকে না বটে কিন্তু তাদেরও বিভিন্ন সম্প্রদায় থাকে ৷ এক সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবের বিবাহ হয় না ৷ কিন্তু বর বধূকে নিজের সম্প্রদায়ের মন্ত্র দিলে ও বধূ তা গ্রহণ করলে বিবাহে বাধা থাকে না ৷ জাত বৈষ্ণবদের কোন গোত্র থাকে না কিন্তু তাদের পনেরটি পরিবার অাছে ৷ যেমন;-

অদ্বৈত পরিবার,নিত্যানন্দ পরিবার, শ্যামচাঁদ পরিবার, জগদীশ পণ্ডিত পরিবার ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ এই জাত বৈষ্ণব ঐতিহ্য থেকে এটাই বলা যায় যে, চৈতন্যকালে অদ্বৈতপ্রভু, নিত্যানন্দপ্রভু, প্রখ্যাত বৈষ্ণব জগদীশ পণ্ডিত,বক্রেশ্বর,গদাধর পণ্ডিত,অভিরাম গোপুাল মানুষের জাতি পরিচয়কে কখনই প্রাধান্য দেননি ৷ এই জাত বৈষ্ণবদের দীক্ষার প্রকরণও খুব সরল, গুরু বা মঠধারী বা ভেক-গোঁসাই শিষ্য-শিষ্যার কানে একাক্ষরী মন্ত্র দেন,শিষ্যের হাতে দেন ডোরী,কৌপীন ও বর্হিবাস ৷ তার গলায় পরিয়ে দেন তুলসীর মালা ৷ অবশ্য পরবর্তীকালে চৈতন্যদেবের অস্পৃশ্যতা বিরোধী,জাত-পাত বিরোধী বৈষ্ণব অান্দোলনের করুণ পরিণতি হয় ৷ এই তথাকথিত জাত বৈষ্ণব'দের বিভিন্ন পরিবার ঐতিহ্য অনুসারে যারা সৃষ্টি করেছিলেন তারা সকলেই ছিলেন চৈতন্যদেবের বিশিষ্ট ভক্ত তাঁরা জাত বৈষ্ণবদের জাতির বিচার করেননি ৷

1 view0 comments
Be Inspired
bottom of page