UA-199656512-1
top of page

#বাঙলার_কীর্ত্তনে_চৈতন্যদেবের_প্রভাব ৷" (#পর্ব_অাট_পোষ্টনং_২১)


#বাঙলার_কীর্ত্তনে_চৈতন্যদেবের_প্রভাব ৷"

(#পর্ব_অাট_পোষ্টনং_২১)


#এখন_অামরা_কীর্ত্তন_বলতে_যা_বুঝি তা হল গরাণহাটী,মনোহরসাহী,ঝাড়খণ্ডী,রেণেটী,মন্দারিণী প্রভৃতির সুর,তবে অবশ্যই এ পরবর্তীকালের সৃষ্টি ৷ চৈতন্যদেবের সময়ে কীর্ত্তনে

কিরূপ সুর ছিল তা জানা যায় না, তবে এখনকার মত পালাবদ্ধভাবে সাজিয়ে কীর্ত্তন করবার দৃষ্টান্ত দেখতে পাওয়া যায় না ৷ চৈতন্যদেবের সময়কালে প্রধানতঃ নামকীর্ত্তনই কীর্ত্তন নামে অভিহিত হত ৷ লীলাকীর্ত্তন যা ছিল, তা ভক্তগণকে নিয়ে মহাপ্রভু নবদ্বীপে ও নীলাচলে অাস্বাদন করতেন ৷ গৌরনিত্যানন্দকে সংকীর্ত্তনের জনক বলা হয় তার কারণ-চৈতন্যদেব(মহাপ্রভু) যে প্রেমধর্ম প্রচার করলেন কীর্ত্তনকে তার বাহন করলেন ৷ ধর্মের সাধক(প্রধান সাধক) যে কীর্ত্তন এটি চৈতন্যদেবের(মহাপ্রভুর) পূর্বে স্বীকৃত হয় নাই ৷ মহাপ্রভু এবং শ্রীনিতাইচাঁদ নিজের দ্বারা দেখালেন যে সংকীর্ত্তনের দ্বারা নর-নারীগণের মন যত সহজে অাকর্ষণ করা যায় এমন অার কিছুতে নয় ৷ ধর্ম জনাকতক ভক্ত,ঋষিযোগী, এবং সাধুসন্ন্যাসীর মধ্যে অাবদ্ধ থাকলে হবে না ৷ সকলকে পারের খেয়ায় তুলতে না পারলে হবে কি ? তাই অায়াসসাধ্য ভজন-সাধন-অারাধনার পরিবর্তে এই কীর্ত্তনযজ্ঞ বা নামযজ্ঞ মহাপ্রভু সকলের চোখের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তসহ ধারণ করলেন ৷ এটিই চৈতন্যদেবের অবদান কীর্ত্তনের ইতিহাসে ৷

অবশ্য দক্ষিণে অার এক ভাবুক কীর্ত্তন-মহিমা প্রচার করেছেন,(অানু:১৬০০খ্রীঃ সময়কাল) তাঁর নাম তুকারাম ৷ তুকারাম একজন মারাঠী বৈষ্ণব সাধু ছিলেন,মহাপ্রভুর সঙ্গে তুকারামের অনেক বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় ৷ তুকারাম নামের প্রভাবে মাতোয়ারা ছিলেন ৷ "নাম অতি মধুর", নাম যে কত মধুর তা বর্ণনা করা যায় না ৷ নাম যে কত মধুর ভগবান তা নিজেই জানে না ৷ পদ্মফুল যেমন জানে না তার সৌরভ কত মিষ্ট ? শুক্তি কি তার মুক্তার মূল্য জানে ? নাম করার যে মহিমা, সেই মহিমা কীর্ত্তনের ৷ ভগবানকে পেতে হলে কীর্ত্তনের মত এমন অার কোনো উপায় নাই ৷ যেখানে কীর্ত্তন হয়,সেখানে ভগবান অাপনি সমাগত হন ৷ কীর্ত্তন শুনে যার কর্ণ পরিতৃপ্ত হয় না,তার কান মুষিকের গর্তের ন্যায় ৷

মহাপ্রভু বলেছেন;—

"কৃষ্ণের মধুর বাণী

অমৃতের তরঙ্গিনী

তার প্রবেশ নাহি যে শ্রবনে ৷

কাণাকড়ি ছিদ্র সম

জানিহ সেই শ্রবণ

জন্ম তার হৈল অকারণ ৷


কীর্ত্তনকে তুকারাম নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন-এই নদী ভগবানের দিকে উর্ধ্বমুখে প্রবাহিত হয়,তিনি কখনও কীর্ত্তনকে ভজনের ত্রিবেণী বলেছেন-ভক্ত, ভগবান ও নাম এই ত্রিধারা সন্মিলিত হয়ে কীর্ত্তন হয়েছে ৷ কীর্ত্তনে যে অমৃতধারা বহে,তাতে জগৎসংসার পবিত্র হয়ে যায় ৷ সে যাই হোক শ্রীচৈতন্যদেব কীর্ত্তনকে যেভাবে করেছেন, তা কেউ পারেন নাই ৷ চৈতন্যদেবের কীর্ত্তনে প্রভাব এইরূপ যে, এখনও কোনও বৈষ্ণব মহাপ্রভুর নাম অাগে না করে কীর্ত্তন করতে সস্মত হবেন না ৷ কীর্তনের পূর্বে যে মহাপ্রভুর নাম করা হয় তাকে গৌরচন্দ্রিকা বা গৌররচন্দ্র বলে ৷ কীর্তনের অাসরে মহাপ্রভুকে অাবাহন করাই গৌরচন্দ্রিকার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, রাধাকৃষ্ণলীলা গান করবার পূর্বে মহাপ্রভুর তদ্ ভবোচিত পদ গান করবার রীতি অাছে ৷ যেমন;- শ্রীকৃষ্ণের রূপগান করবার পূর্বে গৌরাঙ্গের রূপ, বিরহ গাহিবার পূর্বে গৌরাচাঁদের সংসারত্যাগ,হোলিগানের পূর্বে মহাপ্রভু কর্ত্তৃক রাধাকৃষ্ণের হোলিলীলা স্মরণ ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ এই যে গৌরচন্দ্রিকা গান করবার প্রথা কতদিনের ? মহাপ্রভুর প্রকটসময়ে নিশ্চয়ই এরূপ হত না ৷ এমন কি শ্রীবাস প্রভৃতি পারর্ষদগণ যখন চৈতন্যদেবকে ঈশ্বর বলে অাখ্যায়িত করে তাঁর জয়গান করতে লাগলেন,তখন মহাপ্রভু অত্যন্ত লজ্জিত ও ক্রুদ্ধ হলেন ৷


"অহে অহে শ্রীনিবাস পণ্ডিত উদার ৷ অাজ তুমি সব কি করিলা অবতার ॥ ছাড়িয়া কৃষ্ণের নাম কৃষ্ণের কীর্ত্তন ৷ কি গাইলে অামারে তা বুঝাও এখন॥


কিন্তু কে শুনে কার কথা ? লক্ষ লক্ষ মানুষ মহাপ্রভুর জয়গান করতে লাগল ৷ শ্রীবাস বললেন, অামাদের তুমি না হয় দণ্ড দিতে পার, কিন্তু;—


"অাব্রহ্মাণ্ড পূর্ণ হইল তোমার কীর্ত্তনে ৷ কত জনে দণ্ড তুমি করিবা কেমনে ৷"

এই থেকে গৌরাঙ্গ-গীতি বিশেষভাবে প্রচারিত হতে লাগল ৷ তবুও ঐসময়কালে গৌরচন্দ্রিকার উল্লেখ কোথাও পাওয়া যায় না ৷

0 views0 comments
Be Inspired
bottom of page