UA-199656512-1
top of page

*#ময়নাডালে_মহাপ্রভু!* *(#পর্ব_২) ক্রমশঃ চলিবে ৷

Updated: Nov 24, 2020


*#ময়নাডালে_মহাপ্রভু!*

*(#পর্ব_২)*


*#পথে_পথে_একসময় নৃসিংহদেব এসে পৌঁছলেন বীরভূম জেলার এই ময়নাডাল গ্রামে, তখন গ্রাম বলতে জঙ্গলে-ভরা মাত্র কয়েকজন বসবাসকারী ৷* এখানের পথের দিক নির্দেশ তাঁর প্রভুর ইচ্ছায়ই যেন পূর্বনির্ধারিত , তা নাহলে কোথায় বর্ধমান জেলার রাজুর গ্রাম, যা কাটোয়ার সংলগ্ন একটি গ্রাম, তাছাড়াও গঙ্গার তীরবর্তী সেইসব অঞ্চল স্বয়ং মহাপ্রভুর লীলাক্ষেত্র ও বৈষ্ণবজনের পীঠস্থান৷ সেসব অঞ্চলে গ্রামে গ্রামে মন্দিরে মন্দিরে মহাপ্রভুর আরাধনা হয়, খোল-করতাল নিয়ে নামে মাতোয়ারা সেই সব ভূমি ৷ সেই সব পূণ্য ভূমি এড়িয়ে নৃসিংহবল্লভ এলেন বন-জঙ্গল অধ্যুষিত এই রাঢ় অঞ্চলে, কিন্তু কেন ?

#কারণ_স্বয়ং_মহাপ্রভু যে এই পথে এখান পর্যন্ত এসেছিলেন—

"তবে গৌরচন্দ্র সন্ন্যাসীর চূড়ামণি ৷ চলিলা পশ্চিম-মুখে করিয়া হরিধ্বনি॥ প্রভু বোলে "বক্রেশ্বর আছেন যে বনে ৷ তথাই যাইমু মুঞি থাকিমু নির্জনে॥"

(চৈ : ভা :-৩/০১)


#মহাপ্রভুর_স্বপ্নাদেশে পরম বৈষ্ণব শ্রীনৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত এই ঠাকুরবাড়ি ৷ এই ঠাকুরবাড়ি বৈঞ্চবদের পদধূলিতে ধন্য, স্বয়ং মহাপ্রভুর লীলাভূমি ৷ নৃসিংহবল্লভ তাঁর প্রাণের ঠাকুর শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্বপ্নাদেশে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে নিত্য সেবা আরম্ভ করলেন ৷

#শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণের পর যখন বক্রেশ্বর দর্শন ও রাঢ়দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কাটোয়া থেকে যাত্রা শুরু করেন—

"দিন-অবশেষে প্রভু এক ধন্য গ্রামে ৷ রহিলেন পুণ্যবন্ত-ব্রাহ্মণ-আশ্রমে॥ (চৈ : ভা :-৩/০১)

#এই_যাত্রাপথে মহাপ্রভু ধন্যগ্রাম কান্দরাগ্রামে যে পুণ্যবন্ত ব্রাহ্মণ অর্থাৎ মঙ্গল আলয়ে বিশ্রাম করেন ৷ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু সেই মঙ্গল বৈষ্ণবের ভক্তি প্রেমে মুগ্ধ হয়ে ঠাকুর উপাধি দান করেন, সেই থেকে মঙ্গল বৈষ্ণব হলেন *#মঙ্গল_ঠাকুর*৷



*( এটি ১৩৯৬ সালে "সংকীর্তন" পত্রিকায় প্রকাশিত মঙ্গল ঠাকুরের বংশধর আমাদের গুরুদেব শ্রীগোলকবিহারী ঠাকুরের লেখা থেকে জানা যায়)*


শ্রীগোলকবিহারী ঠাকুরের এই লেখাটির বিশেষ গুরুত্বও আছে দুটি বিষয়ে যেমন— প্রথমতঃ মহাপ্রভু এই পথে পরিভ্রমন করেছিলেন এবং দ্বিতীয়তঃ শ্রীনৃসিংহবল্লভের জন্মকাল ৷ মহাপ্রভু যদি মঙ্গল ঠাকুরের আতিথ্যে একরাত্রি মঙ্গল ঠাকুরের বাড়িতে থাকেন, তাহলে মঙ্গল ঠাকুর মহাপ্রভুর সমসাময়িক, আবার মঙ্গল ঠাকুর যদি নৃসিংহবল্লভকে দীক্ষা দেন, সেক্ষেত্রে নৃসিংহবল্লভ মঙ্গল ঠাকুর প্রকট থাকাকালীনই জন্মেছিলেন ৷ সুতরাং বলা যেতেই পারে নৃসিংহবল্লভের জন্ম শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময় পরিধির খুবই কাছাকাছি ৷

*(#জয় মহাপ্রভু)*



(ময়নাডাল ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত "সংকীর্তন" পত্রিকা ও পারিবারিক খাতার সাহায্য নিয়ে লেখা)"'

12 views0 comments
Be Inspired
bottom of page