UA-199656512-1
top of page

"" *#ময়নাডালে_মহাপ্রভু* "" (#সনৎমিত্রঠাকুর )" *(#পর্ব_০১)* ক্রমশঃ চলিবে ৷

Updated: Nov 24, 2020


"" *#ময়নাডালে_মহাপ্রভু* ""

(#সনৎমিত্রঠাকুর)"


*(#পর্ব_০১)*

*#সর্বসদ_গুণপূর্ণাং_তাং বন্দেফাল্গুন পূর্ণিমাম্ ৷ যস্যাং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যোঽবতীর্ণঃ কৃষ্ণনামভিঃ ॥*


#যে_ফাল্গুনী_পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণনামের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন , সমস্ত সদ্গুণ দ্বারা পরিপূর্ণ সেই ফাল্গুনী পূর্ণিমা ৷


*#হরি_হরি_বোলে_লোক_হরষিত_হৈয়া ৷ জন্মিলা চৈতন্যপ্রভু নাম জন্মাইয়া ॥*

#নাম_জন্মাইয়া- "হরিনাম লোকের মুখে কীর্তন করিয়ে প্রভু নিজে জন্মগ্রহণ করলেন।

যারে দেখে তারে কহে-কহ কৃষ্ণনাম ৷

কৃষ্ণনামে ভাসাইল নবদ্বীপ গ্রাম॥



#পৃথিবীতে যত আছে নগরাদি গ্রাম ৷ সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম ॥

—তাঁর এই উক্তিও আজ বহুলাংশে বাস্তবায়িত হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে ৷—"এটিরই এক কণা ফসলরূপ নিম্নোক্ত "নৃসিংহবল্লভ"

~~~~~~~~~~

*#নৃসিংহবল্লভ* ;— কায়স্থ পরিবারে শ্রীকালীচরণ মিত্রের ঔরসে কমলাদেবীর গর্ভে শ্রীনৃসিংহবল্লভের জন্ম ৷ (নৃসিংহবল্লভের জন্ম-১৪৭৮ শকাব্দ , ভাদ্রমাস অষ্টমীর দিন , বিগ্রহ মূর্তির স্থাপন ও সেবা প্রকাশ-১৫১৫,শকাব্দ , আর মহাপ্রয়াণ ১৫৫৫ শকাব্দ নন্দোৎসবের দিন শেষ প্রহরে )


(আবির্ভাব- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে। তিরোভাব -১৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে। প্রকট কাল ৭৭বৎসর)


*{শকাব্দের সঙ্গে ৭৮ বৎসর যোগ করলেই খ্রিস্টাব্দ হয়}*


*( এবার দেখা যাক-(প্রকট-১৪০৭, অপ্রকট-১৪৫৫-শকাব্দ)

*নিমাইর আবির্ভাব -১৪৮৬-খ্রীষ্টাব্দে,২৭শে ফেব্রুয়ারী। ফাল্গুনী পূর্ণিমায়। সন্ন্যাস গ্রহণ -১৫১০ খ্রীষ্টাব্দে৷ অন্তর্ধান - ১৫৩৩।খ্রীষ্টাব্দের ২৯শে জুন।)*



চৈতন্যমহাপ্রভুর তিরোভাবের ১৫ বৎসর পর শ্রীচৈতন্য ভাগবত রচিত হয়েছিল ৷১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দে।

চৈতন্যের গৃহত্যাগের সময় বিষ্ণুপ্রিয়ার বয়স ছিল ১৫/১৬ বছরের মতো ৷ চৈতন্য ভাগবৎ রচনার সময় বিষ্ণুপ্রিয়া জীবিত ছিলেন।

কেননা ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রীনিবাসাচার্য নীলাচলে যাবার সময় মহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদ পান। নীলাচল থেকে ফিরে আসলে, নরহরি সরকার ঠাকুর শীঘ্র বৃন্দাবনে যেতে আদেশ করেন। খুব সম্ভব এর ২/১ বছরের মধ্যেই শ্রীনিবাস নবদ্বীপ হয়ে বৃন্দাবনে গেছিলেন , এবং যাত্রার পূর্বে তিনি দেবীবিষ্ণুপ্রিয়ার অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন৷ আনুমানিক ১৫৩৪/১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে শ্রীনিবাসাচার্য বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন।


*বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আবির্ভাব ১৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে মাঘী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে এবং তিরোভাব ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দের ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে ৭৭ বছর বয়সে অপ্রকট হন।*


#যদি_মঙ্গলঠাকুর চৈতন্যের সমসাময়িক হন, আর ১৫/১৬ বৎসরে নৃসিংহবল্লভ দীক্ষা নেন, তাহলে তখন মঙ্গল ঠাকুরের বয়স হবে ৮৬/৮৭ বছর ৷


*#নৃসিংহবল্লভের জন্মস্থান বর্দ্ধমান জেলার জ্ঞানদাস কাঁদরার নিকটে রাজুর গ্রামে ৷*


কালীচরণ মিত্র এবং দূর্গাচরণ মিত্র দুই ভাই তৎকালীন সমাজের শ্রদ্ধেয় , সন্মানীয় ও ধনবান ছিলেন ৷ তাঁদের দুই ভাইয়ের কোন সন্তান ছিল না ৷ সেজন্য তাঁদের মনে দুঃখও ছিল৷



#শ্রী_কালীচরণ মিত্রের স্ত্রী কমলাদেবী ফল লাভের আশায়, এক পূণ্য তিথির শুভলগ্নে গঙ্গাস্নানে গিয়ে "মা" গঙ্গার কাছে সন্তান কামনা করেন, স্নান কালে গঙ্গার ঘাটে এক ব্রাহ্মণ কমলাদেবীকে তার মনোবাসনা পূর্ণ হবে বলে আশীর্বাদ করেন এবং একটি নৃসিংহ কবচ দিয়ে শরীরে ধারণ করতে বলেন। এক বৎসরের মধ্যে পুত্রবতী হবার আশীর্বাদও দেন, আরও বলেন পুত্রের নাম রাখবে নৃসিংহবল্লভ ও জ্ঞানদাস কাঁদরার মঙ্গল ঠাকুরের কাছে দীক্ষা নিতে বলবে ৷ একথা কমলাদেবী দৈববাণীর মত শুনলেন ৷গঙ্গাস্নান সেরে কমলা দেবী বাড়ী এলেন যথা সময়ে সন্তানের মা-ও হলেন ৷ শিশুর বয়সের সাথে সাথে তাঁর আনমনা ভাব ৷ শুধু গৌর-গৌর বলতেন ৷ আর গৌর হরির কথা শ্রবন,মনন, চিন্তন করতেন ৷


*#নৃসিংহবল্লভের_প্রতি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের অশেষ কৃপা ৷*

একদিন মঙ্গল ঠাকুর নিজ কাজে রাজুর গ্রামে এসেছেন এমন সময়ে জানতে পেরে ঐ ছেলে মঙ্গল ঠাকুরের কাছে দীক্ষা নেওয়ার কথা জানালেন। ঠাকুর আনন্দিত হয়ে নৃসিংহদেবের বাড়ীতে গিয়ে দীক্ষা দিয়ে নাম দিলেন নৃসিংহবল্লভ ৷ দীক্ষা গ্রহণের পর যেন আরও কৃষ্ণ নামে পাগল হলেন ৷ গৌর-গৌর বলে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন নাওয়া খাওয়া ভুলে পরিশ্রান্ত হলে ঘুমিয়ে পড়তেন ৷


*#দিন_অবশেষে_প্রভু_এক_ধন্য_গ্রামে ৷ রহিলেন পুণ্যবন্ত-ব্রাহ্মণ-আশ্রমে ॥* চৈ; ভাগ;

এই সেই ব্রাহ্মণ,মঙ্গল ঠাকুর।


*#ভক্তের_ভগবান_ভক্ত_বাঞ্ছা পূরণের জন্য নৃসিংহবল্লভকে স্বপ্নে দরশন দিলেন।*

স্বপ্নে গৌরসুন্দর বলছেন , তোমাকে আর ঘুরে ঘুরে কেঁদে কেঁদে নাম গান করে বেড়াতে হবে না ৷ আমি রাঢ়দেশ ভ্রমনকালে যেখানে ময়নাবনে অবস্থান করেছিলাম, বক্রেশ্বর এর পশ্চিমে ক্রোশ চার দূরে অতি মনোরম স্থান নিম ও তমাল বৃক্ষে ঘেরা,ঐখানে তুমি আমার বিগ্রহ স্থাপন করে সেবা-পূজা কর।


১৫/১৬ বছর বয়সে যদি নৃসিংহবল্লভ মঙ্গল ঠাকুরের কাছে দীক্ষা নিয়ে থাকেন আর ১৫১৫ শকাব্দে সেবা ও বিগ্রহ প্রতিষ্টা করেন তাহলে তিনি নিশ্চয় নবদ্বীপ ,মায়াপুর,কাটোয়া,তথা চারিদিকে সকলকে কৃষ্ণনামে পাগল করে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীদর্শন ও চৈতন্য ভাগবত ও তাঁর পড়ার সুযোগ হয়েছে ৷তাহলে নৃসিংহদেবের ময়নাবনে আসার মূল কারণ স্বপ্নাদেশ বলে দৃঢ় বিশ্বাসে পরিণত হয় ভক্তজনে)

নৃসিংহবল্লভ এই অলৌকিক স্বপ্ন দেখে আনন্দে বিচলিত হয়ে তাঁর জন্মভূমি রাজুর গ্রাম ছেড়ে গৌরহরি গৌরহরি বলে ময়নাবনে পৌঁছলেন ৷ কয়েকদিন পথ পরিশ্রমের ফলে তিনি তমাল বৃক্ষ তলে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷ আবারও স্বপ্নাদেশ পেলেন যে,জয়দেবের কাছে সুগড় গ্রামের ভাষ্করকে দিয়ে আমার বিগ্রহ নির্মান করাবে ৷


নৃসিংহবল্লভ ময়নাবনে গৌরসুন্দরের বিগ্রহ স্থাপনের স্থান নিরূপণ করে ভাষ্করের সন্ধানে জয়দেবের নিকটে সুগড় গ্রামের দিকে গেলেন। গিয়ে দেখলেন ভাষ্কর জন্মান্ধ , ভাষ্কর বললেন আপনার গৌরহরি আমার সেবা নেবার ইচ্ছা হলে সকলের মতো আমারও দৃষ্টি শক্তি দেবেন। একথা শুনে মনের দুঃখে তিনি ফিরে এসে গৌরহরি গৌরহরি বলে কাঁদতে কাঁদতে ভাষ্করের চিন্তায় তমাল বৃক্ষের নীচে ঘুমিয়ে পড়লে গৌরহরি স্বপ্নাদেশে তাঁকে বলছেন-তুমি আবার ভাষ্করের কাছে যাও , সে তার অন্ধচোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে , আর এদিকে চোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়ে আনন্দে পথে পথে নৃসিংহবল্লভকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন , নৃসিংহদেবও স্বপ্নাদেশের পর ভাষ্করের খোঁজে সুগড়ের দিকে যেতে যেতে পথিমধ্যে দুজনের দেখা হলে ভাষ্করকে নিয়ে নৃসিংহদেব ময়নাবনে এলেন ৷


কিছু দিনের মধ্যে ভাষ্কর নিম্ববৃক্ষ দ্বারা স্বপ্নদৃষ্ট বিগ্রহ নির্মান করলেন ৷ নৃসিংহবল্লভ ভাষ্করকে বললেন- তুমি মহা ভাগ্যবান, তোমার নিপূণ হাতে নির্মিত ঐ বিগ্রহ বারবার দর্শনেও আশ মেটে না , তুমি ধন্য ৷



নৃসিংহবল্লভ এই বিগ্রহ কুঁড়ে ঘরে প্রতিষ্ঠা করে ভিক্ষার দ্বারা সেবা-পূজা শুরু করলেন ৷ তিনি প্রতিদিন ভিক্ষা করে নিজে হাতে রান্না করে ভোগ দিয়ে ঐ মহাপ্রসাদ উপস্থিত ভক্ত, বৈষ্ণব, এবং দীন-দুঃখী জনের সেবা করিয়ে তিনি শেষে প্রসাদ পেতেন ৷


নৃসিংহবল্লভ আর্তিভরে কীর্তন করতেন ৷

তাঁর কীর্তন শুনে ভক্তেরা তাঁকে #ঠাকুর বলতেন। সেই থেকে তাঁর #ঠাকুর_উপাধি হয়ে যায়।শ্রীনৃসিংহবল্লভ মিত্র থেকে *#শ্রীনৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুর !*


(আদিপুরুষ নৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুর ১৬০০ খ্রীষ্টাব্দের আগে তিনি মঙ্গল ঠাকুরের পৌত্র বদন ঠাকুর, শ্রীখণ্ডের রঘুনন্দন, এবং পদকর্তা জ্ঞানদাস এবং নরোত্তম ঠাকুর বাংলাদেশের খেতুরীতে নিত্যানন্দপ্রভুর সহধর্মিনী "জাহ্নবী" দেবীর সভাপতিত্বে যে ধর্মসন্মেলন হয়েছিল সেই মহোৎসবে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে সকলে মিলিতভাবে কীর্তনের একটি ভিন্ন ধারার প্রচলন করেন ৷ সেটি মনোহরসাহী বলে কথিত ৷ এছাড়াও নৃসিংহবল্লভ কাটোয়া, বনবিষ্ণুপুর,শ্রীখণ্ডের ধর্মসন্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন পারিবারিক সূত্রে জানা যায় ৷)


*#নৃসিংহবল্লভ_পদ_কর্তা_ও সুরকার ছিলেন , তিনি যে সুর ও তালে ভজন ও কীর্তন করতেন তাকে "মনোহরসাহী" ঘরানা বলা হত। কারণ এই ময়নাবন তৎকালীন মনোহরসাহী পরগণার অন্তর্গত ছিল ! ময়নাবনে গৌরসুন্দরের সেবা প্রকাশের পর গ্রামটির নাম হল ময়নাডাল ! *(ভক্তজনেরা ময়নাডালধাম বলেন)*

#ময়নাডালের_ঠাকুর বাড়িতে যে পারিবারিক কীর্তনগুলি এখন গাওয়া হয় সেগুলি সবই শ্রীনৃসিংহবল্লভের রচিত ও সুর দেওয়া ৷

#নৃসিংহবল্লভ_রচিত শ্রীসতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত "শ্রী শ্রীপদকল্পতরু" তে একটি পদ—

*#আকাশ ভরিয়া উঠে জয় জয় ধ্বনি ৷ নাচে শিব ব্রহ্মা ইন্দ্র চন্দ্র দিনমণি॥*



*পঞ্চগব্য পঞ্চামৃত শত ঘট জলে ৷ জয় জয় দিয়া কৃষ্ণচন্দ্র-শিরে ঢালে॥ নানা যন্ত্র-বাদ্য গীত দুন্দুভীর রোল ৷ এ তিন ভুবনের লোক বলে হরিবোল॥ কলরব মহোৎসব জগত বেড়িয়া৷ কান্দে হাসে প্রেমে ভাসে ভূমিতে পড়িয়া॥ অখিল-ব্রহ্মাণ্ড-নাথ নন্দের নন্দন ৷ নরসিংহ দেব মাগে চরণে শরণ॥* (প্রকাশ থাকে যে নরসিংহবল্লভ ও নৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুর বৈষ্ণব পদাবলীতে দুটি ভনিতাতে বেশ কিছু পদ আছে যার মধ্যে ময়নাডালের নৃসিংহবল্লভ রচিত যে পদগুলি গাওয়া হয় তার ভনিতা 'নরসিংহ ও নৃসিংহ' ৷


"" #কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার-কর্তৃক সম্পাদিত "পদরত্নাবলী" গ্রন্থটি হতে শ্রীনৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুরের দুটি পদ—


"(সুহিনী")

নব নীরদ নীল সুঠাম তনু ৷

ঝলমল(করে) মুখ চাঁদ জনু ॥

শিরে কুঞ্চিত কুন্তল বন্ধ ঝুঁটা ৷

ভালে শোভিত গোময় চিত্রফোঁটা॥

অধরোজ্জ্বল রঙ্গাম বিম্বু জিনি ৷

গলে শোভিত মোতিম হার মণি॥

ভুজঙ্গিত অঙ্গদ মণ্ডলয়া ৷

নখচন্দ্রক গর্ব্ব বিখণ্ডয়া ॥

হিয়ে হার ধরু নখরত্নে জড়া ৷

কটিকিঙ্কিণী ঘাঘর তাহে মোড়া॥

পদে নূপুর বক্ষরাজ সুশোভে ৷

থলপঙ্কজ বিভ্রমে ভৃঙ্গ লোভে ॥

ব্রজবালক মাখন লেই করে ৷

সরে খাওত দেওত শ্যামকরে॥

বিহরে নন্দনন্দন এ ভবনে ৷

পদসেবক দেব নৃসিংহ ভণে ॥



"(ভাটীয়ারী)"

মরি বাছা ছাড় হে বসন ৷

কলসী উলাইয়া তোমারে লইব এখন ॥

মরি তোমার বালাই লইয়া ,

আগে আগে চল ধাইয়া

ঘাঘর নূপুর কেমন বাজে শুনি ৷

রাঙ্গা লাঠি দিব হাতে ,

খেলাইও শ্রীদামের সাথে

ঘরে গেলে দিব ক্ষীর ননী ॥

মুই রইনু তোমা লইয়া ,

গৃহকর্ম্ম গেল বইয়া

তোরে ইবে কেমন উপায় ৷

কলসী লাগিল কাঁখে ,

ছাড় রে অভাগী মাকে

হোর মেঘ ধরলী পিয়ার ॥

মায়ের করুণা ভাষ ,

শুনিয়া ছাড়িল বাস

আগে আগে চলে ব্রজ রায় ৷

কিঙ্কিনী কাছনি ধ্বনি ,

অতি সুমধুর শুনি

রাণী বোলে সোনার বাছা যায়॥

ভুবন মোহিয়া উরে ,

আঙ্গুলের নখ বরে

সোনায় বান্ধিয়া খোপা তায় ৷

ধাইয়া যাইতে পিঠে ,

অধিক আনন্দ উঠে

নরসিংহ দাসে গুণ গায় ॥

~~~~~~~


*"তুমি গদাধরের প্রাণ, আমার গৌরাঙ্গ হে ৷ তুমি আমার জাতি জীবনধন, আমার গৌরাঙ্গ হে ৷ তুমি এই নৃসিংহের প্রাণ গৌরাঙ্গ হে ॥"*



চৈতন্য-প্রভাবিত কীর্তনগানে মনোহরসাহী ঘরানার চর্চাকেন্দ্র ময়নাডালের মিত্র ঠাকুর পরিবার, (পরে আরও বিস্তারিত আলোচনায় যাব ) প্রায় পাঁচশত বৎসর পূর্বে বর্দ্ধমান জেলার রাজুর গ্রাম হতে আসা কাঁদরার মঙ্গল ঠাকুরের শিষ্য,জমিদার কালিচরণ মিত্রের পুত্র নৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুর ময়নাডাল গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীমন্মহাপ্রভুর বিগ্রহ-সেবাপূজা ও মনোহরসাহী কীর্তন ঘরানার চর্চাকেন্দ্র যা বাংলার কীর্তন ও কীর্তনীয়া গ্রন্থে সাহিত্যরত্ন মহাশয় উল্লেখ করেছেন-"কাঁদরা, ময়নাডাল ও শ্রীখণ্ড মনোহরসাহী কীর্তনের তিন প্রধান কেন্দ্র ৷ চৈতন্যসেবা প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি ময়নাডালের মিত্র ঠাকুর পরিবারের বংশধরগণ মহাপ্রভুর নিত্য সেবারতি নামযজ্ঞ চালিয়ে আসছেন ৷ এই বংশে বড় বড় খ্যাতনামা কীর্তনীয়ার আবির্ভাব ঘটেছে এই বংশে এই ধারাটিকে অর্থাৎ "কীর্তনগানের এই ঘরানাটিকে চারি শতাব্দির অধিককাল ময়নাডালের নৃসিংহবল্লভ মিত্র ঠাকুরের বংশধরগণ অবিকৃত ও অবিচ্ছন্নভাবে বয়ে নিয়ে চলেছেন ৷ অতীতে এই মিত্র ঠাকুর পরিবারের বহু গায়ক,বাদক সারা ভারতবর্ষের বিভিন্নপ্রান্তে কীর্তনগান পরিবেশন করে বাংলার এই অমূল্য সম্পদ ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন ৷ এখানে দুটি বড় উৎসব হয় মহাপ্রভুর জন্মতিথিতে দোলে নৃসিংহবল্লভ রচিত হোলির দিন এই গানটি গেয়ে-

"

আজ হোলি খেলব শ্যাম তোমারই সনে ৷ একলা পেয়েছি তোমায় নিধু বনে ॥ সামালো হে বনমালী আজ ভাঙবো তোমার নাগরালী ৷ কুমকুম মারিব তোমার ঐ বাঁকা নয়নে॥ গ্রাম পরিক্রমা করে ভক্তজনের সঙ্গে হোলি খেলা হয় ও শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী , মথুরা বৃন্দাবনে যখন শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে সেই সময় ময়নাডালও মেতে ওঠে নৃসিংহদেবের রচনা ও সুর দেওয়া কীর্তনের আনন্দোৎসবে—

"তুমি গদাধরের প্রাণ, আমার গৌরাঙ্গ হে ৷ তুমি আমার জাতি জীবন ধন, আমার গৌরাঙ্গ হে ৷ তুমি এই নৃসিংহের প্রাণ, আমার গৌরাঙ্গ হে॥" হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় মহাপ্রভুর মন্দির প্রাঙ্গনে মহাপ্রসাদও গ্রহণ করেন ৷ সারারাত ধরে চলে কীর্তনগান, পরেরদিন পালিত হয় নন্দোৎসব ! নন্দোৎসবের দিন গানের শেষে নৃসিংহবল্লভ রচিত ও সুর দেওয়া প্রার্থনার এই গানটি গেয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়—

*"শচীর নন্দন নাথ দয়া কর মোরে হে ৷ এই কৃপা কর প্রভু যেন তোমায় না পাশরি হে ৷ যেখানে তোমার যাত্রা মহোৎসব নাই হে ৷ ইন্দ্রলোক হইলেও ,তাহাও নাহি চাই হে ৷ যেখানে সেখানে যেন জন্মিয়া না মরি হে ৷কুক্কুর করিয়া রেখো নিজ ভক্ত ঘরে হে ॥"*


#সাহায্যকারী পত্র ও পত্রিকা :—

#ময়নাডাল ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত "সংকীর্তন" পত্রিকা ,(বৈষ্ণবতীর্থ কীর্তনপীঠ ময়নাডাল,-নন্দলাল মিত্র ঠাকুর রচিত ),মালঞ্চ পত্রিকা এবং পারিবারিক সূত্রের সাহায্য নিয়ে লেখা ৷

ক্রমশঃ......

13 views0 comments
Be Inspired
bottom of page