UA-199656512-1
top of page

"রাধাভাবে ভোরা গোরা ৷" (#পর্ব_ছয়_)(চলবে)"


"রাধাভাবে ভোরা গোরা ৷"

(#পর্ব_ছয়_)(চলবে)"



*#প্রভু_কহে যে লাগি আইলাঙ তোমা স্থানে।সেই সব রসবস্তুতত্ত্ব হৈল জ্ঞানে৷৷*


*এবে সে জানিল সেব্য-সাধ্যের নির্ণয় ৷* *(#সেব্য_সাধ্য;সেব্য_হল_শ্রীকৃষ্ণ_এবং_সাধ্য_হল_রাধাপ্রেম)*

আগে আর কিছু শুনিবার মন হয় ৷৷


*কৃষ্ণের স্বরূপ কহ-রাধিকা স্বরূপ ৷ রস কোন্ তত্ত্ব, প্রেম কোন্ তত্ত্বরূপ ৷৷*


*#রায়_কহে ইহা আমি কিছুই না জানি ৷ যে তুমি কহাও সেই কহি আমি বাণী ॥"* (চৈ;চ; মধ্য.অষ্টম প.)

*#শুক(টিয়া)পাখিকে

যা পড়ানো যায়,তা-ই পড়ে ;#অর্থাৎ রামানন্দকে মহাপ্রভু যা সিদ্ধান্তের জ্ঞান সঞ্চারিত করেছেন,প্রভুর কৃপাতে তা-ই তিনি প্রকাশ করছেন৷*


*#অন্যোন্যে মিলিয়া দোঁহে নিভৃতে বসিয়া ৷ প্রশ্নোত্তর গোষ্ঠী করে আনন্দিত হঞা ॥*

*#মহাপ্রভু_ও_রামানন্দ দুজনের মধ্যে—তামা থেকে কাঁসা , কাঁসা থেকে রূপা.............যেমন উৎকর্ষ , তেমনি—#সাধ্য_সাধনতত্ত্ব_, কৃষ্ণতত্ত্ব, রাধাতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গোপীভাব-প্রাপ্তীর সাধন, রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ,, একেবারে— বর্ণাশ্রম ধর্ম থেকে মহাভাব পর্যন্ত সাধ্যবস্তুর উত্তরোত্তর উৎকর্ষ , শ্রীকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা , তত্ত্বকথাদি সম্বন্ধে একজন প্রশ্ন করেন, আর একজন উত্তর দেন ,এইভাবে দশদিন অতিবাহিত হল ৷*


*#প্রভু_কহে কৃষ্ণে তোমার গাঢ় প্রেম হয়।প্রেমার স্বভাব এই জানিহ নিশ্চয় ॥*

*রাধাকৃষ্ণে তোমার মহাপ্রেম হয় ৷যাঁহা তাঁহা রাধাকৃষ্ণ তোমারে স্ফুরয়॥*"


*#রায়_কহে-তুমি প্রভু ছাড় ভারিভূরি ৷ মোর আগে নিজরূপ না করিহ চুরি ॥*" (চৈ;চ;)

*#তখন_মহাপ্রভু—#তবে হাসি তারে প্রভু দেখাইলা স্বরূপ ৷ রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ ॥"* (চৈ;চ;) !

*#রসরাজ" অর্থাৎ অপ্রাকৃত-শৃঙ্গার-রসরাজ-মূর্তি শ্রীকৃষ্ণ এবং "#মহাভাব" অর্থাৎ মাদনাখ্য-মহাভাব-স্বরূপিণী শ্রীরাধা-এই দুয়ের মিলিত এক অপূর্বরূপ , রায় রামানন্দকে দর্শন করালে রামানন্দ আনন্দে মূর্ছা গেলে মহাপ্রভুর স্পর্শে চেতনা ফিরলে মহাপ্রভু আলিঙ্গন করে বললেন তোমা বিনা এইরূপ আর দেখে কোন জন ৷*


*#গৌর_অঙ্গ_নহে , মোর রাধাঙ্গ স্পর্শন ৷ গোপেন্দ্র সূত বিনা তেঁহো না স্পর্শে অন্যজন ॥"* (চৈ;চ;)


*#শ্রীরাধা_নিজ_ অঙ্গ দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অঙ্গকে ঢেকে আছেন বলে বর্তমানে তাঁর (#শ্রীচৈতন্যের) গৌরবর্ণ অঙ্গকান্তি ; বাস্তবিক তাঁর বর্ণ গৌর নয় , কৃষ্ণ বর্ণ ৷*

আর শ্রীরাধাও ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত অন্য কাউকেও স্পর্শ করেন না ৷

*#দক্ষিণ_ভারতে_ গোদাবরী তীরে রামানন্দের মুখ দিয়ে যেদিন অমৃতের নদী প্রবাহিত হয়েছিল,* সেইদিনই মহাপ্রভু রামানন্দকে বলেছিলেন--- *#রামানন্দ ! তুমি আমাকে একটা ভিক্ষা দিবে?*

*#পরমারাধ্য_প্রভুর_মুখে ভিক্ষার কথা শ্রবণ করা মাত্রই রামানন্দ বলেছিলেন* —*#প্রভুগো!আমি তোমার ভৃত্যের ভৃত্য ! তুমি আমার প্রাণ চাহিলেও তাহা দিব_

দিবই দিব_ তুমি শুধু কৃপা করে মাত্র একটিবার বল , কি তোমার অভিলাষ?*

#মহাপ্রভু_বলেছিলেন—

*রামানন্দ ! তুমি যেভাবে পরম মধুর কৃষ্ণকথা শুনিয়ে আমার প্রাণ জুড়ালে,ঠিক এমনিভাবেই

আমি যখন নীলাচলে কাশীমিশ্রালয়ে নিরালায় নিভৃতে অবস্থান করব তখন আমার পার্শ্বে থেকে কৃষ্ণকথা শুনিয়ে আমার প্রাণ জুড়াইও৷*

*#জগতের_লোক জগদীশ্বরের কাছে কতকিছু বিষয় ভিক্ষা করে , আর স্বয়ং জগদীশ্বর কি না, রামানন্দের কাছে, " কৃষ্ণকথা " ভিক্ষা চাইলেন ! কারণ একটাই যে ,*

*বিশুদ্ধ হৃদয় মহাপ্রেমিক ভক্তের মুখে কৃষ্ণকথারূপ অমৃতধারা প্রতি মুহূর্তে বর্দ্ধনশীল হয়ে এক অনাবিল আনন্দ রসাস্বাদিত হয় যে , তখনই অনুভবে আসে তাদৃশ লোভনীয় বস্তু বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আর দ্বিতীয় কোন কিছুতে নাই ৷***

*#এই_কারণেই_মহাপ্রভু_গম্ভীরাকক্ষে_অবস্থানকালীন_রামানন্দ__রায়ের_মুখে_ #কৃষ্ণকথার_রসপ্রাচুর্য_ও_রসবৈভব_ #প্রাণ_ভরে_আস্বাদন_করতেন৷*।। * * *

7 views0 comments
Be Inspired
bottom of page