UA-199656512-1
top of page

রাধাভাবে ভোরা গোরা ৷ #পর্ব_১২/১ চলবে ৷


রাধাভাবে ভোরা গোরা ৷ #পর্ব_১২/১ চলবে ৷


#মধুর_ভক্তিরসের_আস্বাদন;—


#নিভৃত_নিত্য_নিকুঞ্জে_শ্রী গোবিন্দজী আজ রাধারাণীর কাছে নতমস্তক হয়ে বলছেন

-"#মম_শিরশি_মন্ডনং,দেহি পদ পল্লব মুদারং"(গীতগোবিন্দ)

-#হে_রাধে_তোমার_রাতুল রাঙা শ্রীচরণ দুটি আমার মস্তকে স্পর্শ করে শিরভূষন করে দাও।

ভক্ত কবি জয়দেব জী লিখতে পারলেন না এই কথা।তাই তো সাক্ষাৎ গোবিন্দ এসে নিজে হাতে এই শ্লোক লিখে দিলেন।কারণ এ তো ধ্রুব সত্য,রাধারানী তো কৃষ্ণের সর্বস্ব জীবনধন,কৃষ্ণের আত্মা

-"#আত্মারামস্য_কৃষ্ণস্য_ধ্রুবং আত্মা অস্তি রাধিকা"-কালিন্দীদেবী(স্কন্দ পুরাণ)।

#রাধা_আর_কৃষ্ণ তো একই স্বরূপ,যদিও লীলাভেদে রস আস্বাদন ভেদে আলাদা।

গোবিন্দের দারুন বিরহ জ্বালা নির্বাপনের জন্য রাধারাণীর চরণে এমন প্রার্থনা-এটা তো প্রেমের স্বাভাবিক ব্যাপার।এখানে তো কোনো জড় কাম নেই,ছোট বড়োর অভিমান নাই!আছে শুধু বিশুদ্ধাতি বিশুদ্ধ প্রেম,ভগবৎ প্রেম।তাই এ তো রাগানুরাগা ভক্ত মাত্রেরই অস্বাদনীয় বিষয়।সেজন্যই মহাপ্রভু আমার সারাজীবন ধরে 'গীতগোবিন্দ'-এর এই মধুর রস আস্বাদন করেছেন—


"চণ্ডীদাস বিদ্যাপতি শ্রীগীতগোবিন্দ;

ভাবানুরুপ শ্লোক পরে রায় রামানন্দ"-চৈ.চ।

আমাদের পূর্বতন আচার্য, গোস্বামীগণ এর ভজন এই উচ্চ ভাবধারার রস মাধুর্য নিয়েই পুষ্ট।সিদ্ধ স্বরূপে ভক্ত সদাই ব্রজে গোপী/সখী -এটাই ব্রজের যুগল রাধাকৃষ্ণ ভজনের মূল কথা।আমরা নিত্য নিকুঞ্জে যুগল সেবার জন্য তৎপর-ইহাই গোপী ভাব।


#কুঞ্জে_রাধারানী_কৃষ্ণ বিরহে ব্যাকুল,আবার কৃষ্ণও রাধারাণীর অদর্শনে মর্মাহত।একে অপরের বিরহে সুদবুদ হারিয়ে ফেলে প্রেমের পরাকাষ্ঠায় পৌঁছেছে।তাই এ হেন মুহূর্তে গোবিন্দের এরূপ কথন যেন তাঁর রাধাপ্রেমের স্তুতি—

-"#স্মর_গরল_খন্ডনং মম শিরসি মন্ডনং,দেহি পদ পল্লব মুদারং" গীতগোবিন্দ(১০/৮)-


"#হে_রাধে_আমার_কামরূপ তাপ তোমার চরণ স্পর্শে শান্ত হোক"। আহা! রাগানুরাগা সাধকগণের এই অধ্যায় এক অপূর্ব মধুরাতি মধুর রস অস্বাদনের এক আনন্দময় সোপান।


#ব্রজ_অনুরাগী_ভক্ত_মাত্রই ভাগবতের রাস পঞ্চঅধ্যায় এর মতো এই মধুর রসগ্রন্থ "#গীতগোবিন্দ" অবশ্যই পাঠ করতে হয়।কারণ এতে ভগবদ লীলারস অস্বাদনের লালসা বাড়ে।ভজনে গোপী ভাবের অভিমান দৃঢ় হয়।জড় কাম চীরতরে নির্বাপিত হয়ে যায় ৷

ভক্তের মন ব্রজের রাধাকৃষ্ণ ভজনে যেন অনুরক্ত হয় ৷

"#স্বরগরলখণ্ডনং_মম_শিরসি

মণ্ডনং ৷ দেহি পদপল্লবমুদারং ॥ জ্বলতি ময়ি দারুণো মদনকদনানলো ৷ হরতৃ তদুপাহিতবিকারং ॥";#হে_প্রিয় !

তোমার রমণীয় পদবল্লব ভূষণস্বরূপ অামার মস্তকে অর্পণ কর,তাতে কেবল অামার মস্তকের শোভা হবে এমন নয় ; যে অনঙ্গরূপ গরল অামাকে জর্জরিত করছে তারও খণ্ডন হবে ; দেখ মদনয়াতনারূপ নিদারুণ অনল অামাকে দহন করছে, তোমার চরণস্পর্শ সেই দাহজনিত বিকার দূর করুক ৷

#বৈষ্ণবকবি_শিরোমনি শ্রীজয়দেব গোস্বামীই শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপ্রাকৃত প্রেমলীলার বলতে গেলে অাদি স্রষ্টা ৷ তাঁর রচিত শ্রীগীতগোবিন্দ সমগ্র বৈষ্ণব জগতে অদ্বিতীয় ও অতুলনীয় সম্পদ ৷ মনে হয় কোন বৈষ্ণব কবিই শ্রীজয়দেব গোস্বামীর সৃষ্ট প্রভাবকে অতিক্রম করতে পারে নাই ৷ শ্রীজয়দব গোস্বামী গীতগোবিন্দে যে মানময়ী শ্রীরাধাঠাকুরাণীর মানপ্রশমনের জন্য শ্রীরাধার শ্রীচরণে শ্রীকৃষ্ণকে সমর্পণ করাতে কুণ্ঠিত হয়ে;— #স্মরগরলখণ্ডনং মম শিরসিমণ্ডনং"'—এই পর্যন্ত রচনা করে তা অসমাপ্ত রেখে ইতস্ততঃ করতে করতে গঙ্গাস্নানে চলে যান, সেই সময় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই এসে শ্রীগোস্বামীর জায়া পদ্মাবতীর কাছ থেকে সেই অসমাপ্ত গ্রন্থখানি নিয়ে এই অসম্পূর্ণ শ্লোকটির পাশে;—"#দেহি_পদবল্লবমুদারং"';— কথাটি লিখে সম্পূর্ণ করে দেন ৷

যিনি স্বয়ং মানময়ী শ্রীরাধার মান প্রশমনের জন্য তাঁর শ্রীচরণে পতিত হতে বিন্ধমাত্র কুণ্ঠিত হন নাই,তাইতো রাধাভাবে বিভাবিত স্বয়ং তিনিই যে তাঁর গম্ভীরা লীলায় সেই শ্রীগীতগোবিন্দের রসামৃত অাস্বাদনে অাত্মহারা থাকতেন,তাতে অার বিস্ময়ের কি থাকতে পারে ?

#শ্রীজয়দেব_গোস্বামী রচিত শ্রীগীতগোবিন্দম্ মনে হয় উচ্চ অধিকারী ব্যতীত সুবিখ্যাত রসকাব্য শ্রীগীতগোবিন্দের উচ্চতম ভাব হৃদয়ঙ্গম করা বড়ই সুকঠিন ৷ একমাত্র রাগমার্গীয় শুদ্ধ ভক্তেরই অাস্বাদনের অধিকার ৷ বিষয়াসক্ত বহির্মুখ-চিত্ত সম্পন্ন জীবের অপ্রাকৃত ব্রজরস অাস্বাদনের অধিকার কোথায় ?


" রাধে কৃষ্ণ রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ রাধে রাধে ৷রাধে শ্যাম রাধে শ্যাম শ্যাম শ্যাম রাধে রাধে ॥"

#জয়মহাপ্রভু !

1 view0 comments
Be Inspired
bottom of page