UA-199656512-1
top of page

*#রাধাভাবে ভোরা গোরা!* *(#পর্ব_৫৫/২৫)*(চলবে)


*#রাধাভাবে ভোরা গোরা!*


*(#পর্ব_৫৫/২৫)*(চলবে)




"#দুর্গমে_কৃষ্ণভাবাব্ধো নিমগ্নোন্মগ্নচেতসা ৷ গৌরেণ হরিণা প্রেমমর্যাদা ভুবি দর্শিতা॥"

(চৈ:চ:-৩/১৫/শ্লোক_০১)

#কৃষ্ণপ্রেমের দুর্বোধ সাগরে নিমগ্ন ও ভাসমান চিত্ত শ্রীগৌরহই পৃথিবীতে কৃষ্ণপ্রেমের চরম সীমা দেখিয়ে গেছন ৷


#জাগ্রত_হলেও সম্পূর্ণ বাহ্যস্মৃতি না হওয়ায় মহাপ্রভুর মনটি স্বপ্নদৃষ্ট ভাবেই হয়ে রইল ৷ এমন অবস্থায় মহাপ্রভু আগের অভ্যাসবশতঃই যেন যন্ত্রের মত পরিচালিত হয়ে নিত্যকৃত্যাদি সমাপন করলেন এবং নিত্যদিনের মতই জগন্নাথ দর্শন করতে গেলেন ৷ তখনও পর্যন্ত মহাপ্রভুর চিত্তবৃত্তি পূর্বরাত্রির স্বপ্নদৃষ্ট শ্রীকৃষ্ণেই সম্যকরূপে নিবিষ্ট ছিল ৷ কারণ,

সেইকালে গরুড় স্তম্ভের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে মহাপ্রভু যখন মহাভাবাবিষ্ট দশায় একদৃষ্টে জগন্নাথ দর্শন করছিলেন, তখন এক উড়িয়া রমণী মহাপ্রভুর স্কন্ধোপরি পা দিয়ে উঁচু হয়ে জগন্নাথ দর্শন করছিলেন, তা তিনি বুঝতেই পারলেন না৷ তিনি বার বার শুধু "#হা_কৃষ্ণ" আর #প্রাণ_কৃষ্ণ" বলে নয়ন জলে ভাসতে লাগলেন ৷ আবার অন্য একদিন মহাপ্রভু মহাভাবাুবেশে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করতে গিয়ে সাক্ষাৎ ব্রজেন্দ্রনন্দন রূপে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করলেন ৷ তাতে মহাপ্রভুর মনপ্রাণ ব্রজেন্দ্র নন্দনে এমনভাবেই অন্তর্লীন হয়ে পড়ল যে তিনি তৎক্ষণাৎ সম্বিত হারা হয়ে পড়লেন ৷ এমন অবস্থায় সঙ্গী ভক্তগণ মহাপ্রভুর কর্ণকুহরে উচ্চকণ্ঠে কৃষ্ণনাম করতে লাগলেন ৷ এতে কিঞ্চিৎ বাহ্যজ্ঞান হলে তাঁরা মহাপ্রভুকে গম্ভীরা-গৃহে নিয়ে আসলেন ৷ কিন্তু অন্তরঙ্গ ভক্তগণের শত প্রচেষ্টাতেও সেই দিন আর মহাপ্রভুর মহাভাবের উপশম হল না ৷ কেন হল না ?

#এই_লীলায় রাধাভাবে ভাবিত মহাপ্রভুর শ্রীকৃষ্ণবিরহ জনিত গভীর উৎকণ্ঠার চরমতম রূপ যেমন দেখতে পাই, তেমনি ইহাও ভাবতে পারি, শ্রীজগন্নাথদেব ও মহাপ্রভু যেহেতু অভিন্নতনু তাই মহাপ্রভুর দৃষ্টিতে জগন্নাথ দর্শন মাত্র লীলায়িত দুইটি তনু একমূর্তিতে প্রকাশিত হয়ে মহাভাব রাজ্যের গভীরে প্রবেশ করেছে ৷ আর তাই বুঝি ভক্তগণের এত প্রচেষ্টাতেও সেই দিন মহাপ্রভুর বাহ্যিক জ্ঞান স্ফূরণে এত বিলম্ব ঘটেছে ৷ সেই বিশেষ দিনটিতে মহাপ্রভু কৃষ্ণবিরহে শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণীর প্রবল উৎকণ্ঠা নিজের হৃদয়ে এমনভাবে অনুভব করতে লাগলেন যে, কিছুতেই আর স্থির থাকতে না পেরে সমস্তদিনই স্বরূপ দামোদর ও রামানন্দ রায়ের নিকট সেই ভাব মুখে ব্যক্ত করতে লাগলেন—

"#এত_কহি_গৌরহরি,

দুই জনের কণ্ঠ ধরি,

কহে শুন স্বরূপ রামরায় ৷

কাঁহা করোঁ কাঁহা যাও,

কাঁহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,

দোঁহে মোরে কহ সে উপায়॥"

(চৈ:চ:-৩/১৫/২২)

#শুধুমাত্র_সেই দিনই নয়—

"#এই_মত_গৌরপ্রভু_প্রতি_দিনে_দিনে ৷ বিলাপ করেন স্বরূপ-

রামানন্দ সনে॥(চৈ:চ:-৩/১৫/২৩)

#জগৎপ্রাণ মহাপ্রভু নিত্যদিনই জগতের নাথ জগন্নাথদেবকে দর্শন করতেন, আর সেইসময় রাধাভাবাবিষ্ট তাঁর নয়নে শ্রাবণের অবিশ্রান্ত বারিধারার মত কতই না বারি বর্ষণ হত—

"#জলযন্ত্র_ধারা_যেন_বহে অশ্রুজল ৷ আশপাশ লোক যত ভিজিল সকল॥"(২/১৩/১০১)

#উক্ত_জলযন্ত্র বা পিচকারি কথাটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ৷ ইহা অবশ্যই অলৌকিক , ইহা আস্বাদনে অবশ্যই ভাবতে হবে চক্ষু দুটি রাধাগোবিন্দের মিলিত বিগ্রহের এবং ভাবটি কৃষ্ণবিরহিণী রাধাঠাকুরাণীর মহাভাব এবং উদ্দেশ্য জগৎকল্যাণ ৷ শ্রীভগবান লীলাময় ৷ জগৎকল্যাণার্থে তাঁর অনন্তলীলাশৈলী মুগ্ধ করতে পারে বটে, কিন্তু তা বিচারের ক্ষমতা অনন্তব্রহ্মাণ্ড খুঁজিয়া দ্বিতীয় আর কাউকেও পাওয়া সম্ভব নয় ৷।

0 views0 comments
Be Inspired
bottom of page